নতুন আইনে জরিমানা বাড়ানোর খবর গুজব


সিনিউজ: পরিবহন সেক্টরে নতুন একটি আইন প্রণয়ন ও জরিমানা বাড়ানোর যে খবর সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে রটানো হচ্ছে তা বিভ্রান্তি সৃষ্টির জন্য চক্রান্ত বলে জানিয়েছেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের।

সম্প্রতি ফেসবুকে ‘নতুন মোটরযান আইন (সংশোধনী)’ নিয়ে ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়ে। এ নিয়ে পরিবহন সেক্টরে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে।

এ নিয়ে রোববার (০১ সেপ্টেম্বর) সচিবালয়ে ওবায়দুল কাদের সাংবাদিকদের বলেন, মোটরযান আইন নিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে একটা গুজব রটানো হচ্ছে যে এখানে বিভিন্ন বিষয়ে জরিমানা বাড়ানো হয়েছে। আসলে এটা তো মোটরযান আইন না, এটা সড়ক পরিবহন আইন।

ওবায়দুল কাদের বলেন, নতুন মোটরযান আইন তৈরিই হয়নি। আমাদের আইন হচ্ছে ‘সড়ক পরিবহন আইন’। এটার নামই তো ভুল। এগুলো অহেতুক, নামটা যেমন ভুল, তেমনি এসব জরিমানার হারও মনগড়া। স্বার্থান্বেষী মহল বিভ্রান্তি সৃষ্টির জন্য মালিক-শ্রমিককে উস্কে দেওয়ার জন্য চক্রান্ত ও পায়তারা করেছে।
 
পরে সড়ক পরিবহন মন্ত্রণালয়ের এক বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, প্রকৃতপক্ষে সড়ক পরিবহন সেক্টরে ‘নতুন মোটরযান আইন (সংশোধনী) ২০১৯’ নামে কোনো আইন নেই। ২০১৮ সালে জাতীয় সংসদে পাস হওয়া সড়ক পরিবহন আইন-২০১৮ কার্যকর করতে সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগ অংশীজনের সঙ্গে আলোচনা করে বিধিমালা প্রণয়নের কাজ করছে।

‘নতুন মোটরযান আইন (সংশোধনী) ২০১৯’ কে গুজব উল্লেখ করে অপপ্রচার ও গুজরে বিভ্রান্ত না হওয়ার জন্য আহ্বান জানানো হয়েছে বিজ্ঞপ্তিতে।
 
অবৈধ লেনদেনের মাধ্যমে ২৬ সিটের মিনিবাস ৪১ সিট করা নিয়ে এক প্রশ্নে ওবায়দুল কাদের বলেন, এখানে যে একটা ফাঁকি আছে এবং এ ধরনের অপকর্ম হয়ে আসছে। সর্ষের মধ্যেও ভূত আছে। বিষয়গুলো বন্ধ করার জন্য শক্তিশালী একটা টাস্কফোর্স করার জন্য প্রস্তাব আছে।

ওয়েজবোর্ড
সাংবাদিকদের নবম ওয়েজ বোর্ডের সুপারিশ মন্ত্রিসভায় কেন পাস হচ্ছে না- এ প্রসঙ্গে ওবায়দুল কাদের বলেন, এটা ক্যাবিনেটে পাস করার কোনো বিষয় নয়। এটা প্রধানমন্ত্রীর কাছে সামারি আকারে যাবে, সেটা রেডি হচ্ছে। যে কোনো দিন প্রধানমন্ত্রীর কাছে যেতে পারে। সেখান থেকেই সিদ্ধান্ত আসবে।

কাউন্সিল
আওয়ামী লীগের কাউন্সিল নিয়ে ওবায়দুল কাদের বলেন, আমাদের জাতীয় সম্মেলন অক্টোবরেই হওয়ার কথা। নিয়মানুযায়ী তিন বছরে ত্রি-বার্ষিক সম্মেলন। অক্টোবরে এখনও ঠিক আছে। আমরা তো পরিবর্তন করিনি। পরিবর্তন করলে ওয়ার্কিং কমিটির মিটিং ডেকে তা করার বিষয় আসবে। সে বিষয়ে এখনও কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি। হবে না এ মুহূর্তে বলা যাবে না। আমরা এক মাসের নোটিশ দিয়েও জাতীয় সম্মেলন অতীতে করেছি। তবে আমাদের প্রস্তুতি চলছে।

ছাত্রলীগের পদবঞ্চিতদের বিষয়ে ওবায়দুল কাদের বলেন, রাজনৈতিক দলের পুনর্বাসনের কোনো বিষয় নেই। ছাত্রলীগের কমিটিকে বলা হয়েছে রিভিজিট করার জন্য, যদি কেউ রিয়েলি বঞ্চিত হয়ে থাকে। আর ছাত্রলীগের কমিটিতে যদি কাউকে নিয়োগ দেওয়ার সুযোগ থাকে, ছাত্রলীগের দায়িত্বপ্রাপ্ত কয়েকজন নেতা আছেন, আমাদের নেত্রী দায়িত্ব দিয়েছেন। তারা বিষয়টি বিবেচনা করবে। যারা পদবঞ্চিত বলে পরিচিত তারা তো রাস্তায় এখন আন্দোলন করছে না, কাজেই নিশ্চয়ই এটার একটা প্রক্রিয়া চলছে, এটা সমাধানের একটা পথ, হয়তো তারাও আশ্বস্ত হয়েছে সমাধানের ব্যাপারে। সে কারণে তারাও কোনো বিক্ষোভ দেখাচ্ছে না।

সিনিউজ ডেস্ক

0 Comments

Please login to start comments