ধর্ষকের সঙ্গে বিয়ে, বৈধতা নিয়ে প্রশ্ন মানবাধিকার কর্মীদের


সিনিউজ: নিপীড়কের সঙ্গে নিপীড়িত নারীকে বিয়ে দেওয়ার মতো মানবাধিকার লঙ্ঘনের বিচার হওয়া উচিত। ধর্ষণের অভিযোগ তোলা গৃহবধূর সঙ্গে অভিযুক্ত ধর্ষকের বিয়ে দেওয়ার ঘটনাটিকে আইন বহির্ভূত ও স্বেচ্ছাচার বলে মন্তব্য করেছেন মানবাধিকারকর্মী ও নারী নেত্রীরা। 

পাবনা সদর উপজেলার দাপুনিয়া ইউনিয়নের সাহপুর যশোদল গ্রামে তিন সন্তানের মা ওই গৃহবধূর মা জানান, গত ২৯ আগস্ট মেয়েকে তুলে নিয়ে যাওয়ার খবর পান তারা। প্রধান অভিযুক্ত রাসেল দীর্ঘদিন ধরে তার মেয়েকে বিবাহ বহির্ভূত সম্পর্ক স্থাপনের প্রস্তাব দিয়ে আসছিল। পরবর্তীতে তাকে ডেকে নিয়ে একটি ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের অফিসে আটকে রাখে। এরপর ৫ সেপ্টেম্বর পরিবার খবর পায় যে, তাদের মেয়ে হাসপাতালে রয়েছেন।

নারী নেত্রী অ্যাডভোকেট সালমা আলী বলেন,এধরনের ঘটনা যদি হতে থাকে, তাহলে ধর্ষণ উৎসাহিত হয়। এ ঘটনাগুলোর জন্যই ধর্ষণ বাড়ছে। কেননা, অপরাধীরা মনে করছে  যদি কোনও নারীকে সে স্পর্শ করে, তাহলে সেই নারীর ‘সম্ভ্রম’ রক্ষায় তাকে বিয়ে করার সুযোগ এই সমাজ করে দেবে বলেও মন্তব্য করেন তারা।

এ বিষয়ে আইন ও সালিশ কেন্দ্রের নির্বাহী পরিচালক শিপা হাফিজা বলেন, ধর্ষকের সঙ্গে ধর্ষণের শিকার নারীর বিয়ে দেওয়া জঘন্য অপরাধ। ধর্ষক আক্রমণকারী, যে কিনা নারীকে তার অমতে অপমানিত করেছে। নারীর শরীর অপমানিত হয়েছে তা বলছি না। অসম্মতিতে সে অপরাধ সংঘটনের মধ্যদিয়ে তাকে অপমান করেছে। ধর্ষক সবসময়ই ফৌজদারি আসামি। তার সঙ্গে বিয়ে হয় কী করে, তাও আবার থানায়? যাদের ওপর আইনশৃঙ্গলা রক্ষা ও প্রতিষ্ঠার দায়িত্ব দেওয়া আছে, তাদের দ্বারা আইনের এমন লঙ্ঘনের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি হওয়া উচিত।

সংঘবদ্ধ এই ধর্ষণের অভিযোগ দায়েরের পর অভিযুক্ত ধর্ষকের সঙ্গে ভিকটিমের বিয়ে দেওয়ার ঘটনায় সোমবার (৯ সেপ্টেম্বর) তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। পাশাপাশি অভিযোগকারীর সঙ্গে অভিযুক্তকে থানার ভেতরে বিয়ে দেওয়ার ঘটনায় পাবনা সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ওবাইদুল হককে কারণ দর্শানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

আজ  (মঙ্গলবার, ১০ সেপ্টেম্বর) রাত ১২টার মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন দেওয়া হবে উল্লেখ করে পাবনার পুলিশ সুপার রফিকুল ইসলাম বলেন, ‘প্রতিবেদনটি হাতে পেয়ে তারপর আমি প্রতিক্রিয়া জানাতে চাই। তবে ঘটনাটি কেবল থানায় বলেই না, কোনোভাবেই ধর্ষকের সঙ্গে নিপীড়নের শিকার নারীর বিয়ে দেওয়া উচিত কাজ না বলে মনে করেন পুলিশ সুপার।

 

সিনিউজ ডেস্ক

0 Comments

Please login to start comments