জাতীয়

দেশের প্রয়োজনে নিজস্ব উদ্যোগে করোনা ভাইরাস শনাক্ত কীট আমদানি করেছি  গাজীপুরের মেয়র জাহাঙ্গীর।

গাজীপুরের মেয়র জাহাঙ্গীর


নিজস্ব প্রতিবেদক : দেশে করোনা রোগী শনাক্ত করতে পর্যাপ্ত র‍্যাপিড টেস্ট কিট না থাকায় চিকিৎসকদের ভেতরে আতংক দেখা যায়, সরকার এই কিট পাওয়ার জন্য বিশ্ব স্বাস্থ্যসংস্থাসহ বিভিন্ন দেশের সরকারের প্রতি সাহায্যের আহব্বান জানায় তখনই ব‍্যক্তি উদ্যোগে কিট  আমদানির উদ্যোগ নেন গাজীপুর সিটি করপোরেশনের মেয়র জাহাঙ্গীর আলম।

 তার কিট আমদানির ঠিক আগে প্রথম পর্যায় কোভিড-১৯ শনাক্তে চীন সরকারের পক্ষ থেকে বাংলাদেশকে পাঁচশ কিট উপহার দেয়।  বাংলাদেশ সরকারের থেকে অনুমতির অপেক্ষায় না থেকে জনগণের উপকারের কথা ভেবে ব্যাক্তিগত উদ্যোগে চীন থেকে এসব কীট আমদানি করেন বলে জানাযায়।  সারাদেশে  কীট দিয়ে রোগ নির্ণয়ের জন্য বিতরণও করেন এবং  স্বাস্থ্য অধিদপ্তরে কর্মকর্তারা ইতিমধ্যে জাহাঙ্গীরের আমদানি কিট দিয়ে পরীক্ষা চালিয়ে যাচ্ছেন। 
 কীট আমদানির বেশ কিছুদিন অতিবাহিত হওয়ার পর আন্তর্জাতিক একটি গণমাধ্যম আমদানিকৃত কিট চিকিৎসার অনুপোযোগী এরুপ একটি খবর প্রকাশ করে। ঐ খবরের সততা নিয়ে  মানুষের মধ্যে নানা মুখী আলোচনা হচ্ছে এবং  ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।  সাধারণ মানুষ মনে করে চীন  সংকটময় অবস্থা দুর করতে তাদের তৈরি কিট দিচ্ছে বিশ্বব‍্যাপি এবং চীন থেকেও বিশ্বের বিভিন্ন দেশ কিট সংগ্রহ করছে যেগুলো বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার অনুমোদিত। মানুষকে সহযোগিতা করতে বাংলাদেশে ব‍্যক্তি উদ্যোগে কিট আমদানিতে বাঁধা কোথায়  এনিয়ে প্রশ্ন উঠেছে! আলীবাবা প্রতিষ্ঠান এবং চীন সরকারের থেকে বাংলাদেশকে যে কিট দিয়ে   সহযোগিতা করা হয়েছে সেগুলো কি স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের অনুমোদন ছিল?   কেউ সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দিলে তাকে  উৎসাহ দেওয়া উচিৎ কিন্তু সংবাদমাধ্যম উৎসাহ দেওয়ার পরিবর্তে  নিরুৎসাহি করতে মরিয়া হয়ে উঠেছে কেন? তাদের স্বার্থ কোথায় এসব প্রশ্ন ঘুরপাক খাচ্ছে মানুষের ভেতরে। বিশ্বমহামারিতে  দেশের এই  সংকটকালীন  সময় গনমাধ‍্যমে নেতিবাচক রিপোর্ট হলে দেশের উচ্চ বিত্তশালীরা সাহায্য সহযোগিতা থেকে নিজেদের গুটিয়ে নিতে পারেন বলেও অনেক পেশাজীবী মনে করেন। অনুমোদনের জন্য বসে না থেকে মানুষের কল্যাণে আমদানি করা কীটগুলো বিতরণের দাবিও করেছেন সাধারণ মানুষ। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন চিকিৎসক মনে করেন, চীনে এই রোগের উৎপত্তি স্থল, সেখানে এই কিট দিয়ে পরীক্ষা করানো হচ্ছে, এটি যদি করোনা পরীক্ষায় অনুপযুক্ত প্রমানিত হতো তাহলে আমদানি নিয়ে প্রশ্ন তোলা যেত। ওষুধ প্রশাসনের উচিৎ ছিলো পরীক্ষা করে দেখা, ব‍্যক্তিমালিকানায় আমদানিকৃত কিটগুলো পরীক্ষার জন‍্য উপযুক্ত কি না। 
এ বিষয়ে মেয়র জাহাঙ্গীর আলম সিনিউজকে বলেন, চীনে এই কীট ব্যবহার করেই করোনা ভাইরাস মোকাবিলায় সফল হয়েছে। তাই দেশের এই সংকটকালীন সময়ে আমি নিজের টাকায় এসব কীট আমদানি করেছি। এখানে সিটি করপোরেশনের এক পয়সাও খরচ হয়নি। অনুমোদন ছাড়া আমদানির বিষয়ে মেয়র জাহাঙ্গীর আলম বলেন, আইন আগে না, মানুষের জীবন আগে? আমি মানুষের জীবন বাঁচাতেই এই কাজ করেছি। মানুষ যখন মৃত্যুর ঝুঁকিতে, তখন কোনো আইন চলে না। মানবতার কল্যাণের জন্যই আমি করোনা ভাইরাসের র‍্যাপিড  কীট আমদানি করেছি। মানুষের জীবন বাঁচাতে গিয়ে আমি কোনো অপরাধ করিনি। সুত্র জানায়, দীর্ঘদিন মেডিকেল ইকুইপমেন্ট সরবরাহ কারীসহ  স্বাস্থ্য অধিদপ্তরে  একটি সিন্ডিকেট সক্রিয় রয়েছে, কেউ চিকিৎসা সামগ্রী ফ্রি বিলি করলে তাদের ব‍্যবসায়ীক ক্ষতি হবে তাদের প্রবাকান্ড কি না, গোয়েন্দা সংস্থা থেকে তদন্ত করলেই আসল রহস্য বেরিয়ে আসবে।

সিনিউজ ডেস্ক

0 Comments

Please login to start comments