থাই ডন সেলিম প্রধানের বিরুদ্ধে র‌্যাবের দুই মামলা


সিনিউজ: থাই ডন খ্যাত বাংলাদেশে অবৈধ অনলাইন ক্যাসিনো ব্যবসার মূলহোতা সেলিম প্রধানের বিরুদ্ধে দু’টি মামলা করেছে র‌্যাব। এর মধ্যে একটি মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ এবং অপরটি মানি লন্ডারিং আইনে।

বুধবার (২ অক্টোবর) ঢাকার গুলশান থানায় র‌্যাব বাদী হয়ে মামলা দুটি করে।

গুলশান থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. কামরুজ্জামান গণমাধ্যমকে মামলার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

তিনি জানান, গ্রেফতার সেলিম প্রধান এবং তার দুই সহযোগী আক্তারুজ্জামান ও রুমানের নামে দু’টি মামলা দায়ের করা হয়েছে। এর মধ্যে মাদক আইনে দায়ের করা মামলায় রিমান্ড চেয়ে তাদেরকে আদালতে পাঠানো হবে। আর মানি লন্ডারিং আইনে দায়ের করা মামলার তদন্ত করবে সিআইডি।

এদিকে সেলিম প্রধানের অফিস থেকে দু’টি হরিণের চামড়া উদ্ধারের ঘটনায় মঙ্গলবারই তাকে ৬ মাসের কারাদণ্ড দিয়েছেন র‍্যাবের ভ্রাম্যমাণ আদালত। সেই দণ্ডে তিনি বর্তমানে জেলহাজতে রয়েছেন বলেও জানান ওসি কামরুজ্জামান।

এর আগে সোমবার (৩০ সেপ্টেম্বর) দুপুরে থাই এয়ারওয়েজের টিজি-৩২২ নম্বর ফ্লাইটটি ছাড়ার আগমুহূর্তে সেলিম প্রধানকে বিমান থেকে আটক করা হয়।

প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদের পর সোমবার রাত সাড়ে ৯টায় রাজধানীর গুলশান-২ এর ১১/এ রোডে সেলিম প্রধানের অফিসে অভিযান চালায় র‌্যাব। রাতভর অভিযানের পর মঙ্গলবার দুপুরে বনানীর আরেকটি অফিসে অভিযান চালানো হয়।

দুই জায়গায় অভিযান চালিয়ে ৪৮টি বিদেশি মদের বোতল, ২৯ লাখ ৫ হাজার ৫০০ নগদ টাকা, ২৩টি দেশের বৈদেশিক মুদ্রা (যার মূল্য ৭৭ লাখ ৬৩ হাজার টাকা), ১২টি পাসপোর্ট, ১২টি ব্যাংকের ৩২টি চেকবই, একটি বড় সার্ভার, ৪টি ল্যাপটপ এবং দু’টি হরিণের চামড়া উদ্ধার করে র‌্যাব।

র‍্যাবের তদন্তে সেলিম প্রধানের গুলশানে ‘প্রধান ফ্যাশন’ ও ‘প্রধান বিউটি কেয়ার অ্যান্ড স্পা’ নামে আরও দু’টি প্রতিষ্ঠানের সন্ধ্যা পেয়েছে র‍্যাব। তবে দুটি প্রতিষ্ঠানই বন্ধ পাওয়া গেছে।

বিভিন্ন সূত্রে জানা যায়, মূলত অনলাইন ক্যাসিনো থেকে আয়ের অর্থ তিনি জাপানসহ বিভিন্ন দেশে পাচার করতেন। গুলশানে তার একটি স্পা সেন্টার রয়েছে। সেখানেও অনৈতিক কর্মকাণ্ড চলে। তার বাড়ি নারায়ণগঞ্জে।

সেলিম প্রধান অনলাইনে ক্যাসিনো পরিচালনাকারী এবং বাংলাদেশের কান্ট্রি প্রধান। তিনি ওয়ান্ডারার্স ক্লাবের সহসভাপতি। এ ছাড়া এর আগে গ্রেফতার হওয়া বিসিবি পরিচালক লোকমান হোসেন ভূঁইয়ার ক্যাশিয়ারও।

সেলিম প্রধানের ব্যাংককের পাতায়ায় বিলাসবহুল হোটেল, ডিসকো বারসহ কয়েকটি প্রতিষ্ঠান রয়েছে।

সংশ্লিষ্টরা জানান, শুধু অনলাইন ক্যাসিনো পরিচালনাই নয়, সেলিম প্রধান রাজশাহীসহ সীমান্ত এলাকায় ভারতীয় গবাদিপশুর সব খাটাল ও মাদক সিন্ডিকেটের হোতা। এমনকি সীমান্তে জালটাকার মূল সিন্ডিকেটের নিয়ন্ত্রণও তার হাতে।

প্রশাসনের বিভিন্ন ব্যক্তির সঙ্গে সখ্য গড়ে তোলে তিনি খাটাল, মাদক ও জালটাকার সিন্ডিকেট নিয়ন্ত্রণ করেন। সেখান থেকে প্রতি মাসে লাখ লাখ টাকা চাঁদা নেন। দুই বছরে তিনি সীমান্ত এলাকা থেকে প্রায় দুই কোটি টাকা চাঁদা নিয়েছেন।

সিনিউজ ডেস্ক

0 Comments

Please login to start comments