দেশজুড়ে

তিন জেলায় ডেঙ্গুতে ৪ জনের মৃত্যু


সিনিউজ: খুলনা, ময়মনসিংহ ও যশোরে মঙ্গলবার রাত ও বুধবারে ডেঙ্গু জ্বরে আক্রান্ত হয়ে চার জনের মৃত্যু হয়েছে। বিশেষ করে খুমেকে চিকিৎসাধীন শাহিদা বেগম (৫০), ময়মনসিংহে হাফিজুল ইসলাম (৩৫) নামে এক গার্মেন্টকর্মী ও যশোরে রেবেকা খাতুন (৫৫) ও সবুজ (৩২) নামে দুইজন ডেঙ্গুতে মারা গেছেন। 

সংবাদদাতাদের পাঠানো প্রতিবেদন তুলে ধরা হলো-

খুলনা 
খুলনা মেডিকেল কলেজ (খুমেক) হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শাহিদা বেগম (৫০) ডেঙ্গু জ্বরে আক্রান্ত মারা গেছেন। বুধবার (২৮ আগস্ট) ভোরে তিনি মারা যান। 

খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসক (আরপি) ডা. শৈলেন্দ্রনাথ বিশ্বাস ডেঙ্গু রোগীর মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেন। এ নিয়ে ডেঙ্গু জ্বরে আক্রান্ত হয়ে খুলনায় দু’জন নারীসহ ৬ জনের মৃত্যু হয়েছে।

খুমেক হাসপাতাল সূত্র জানায়, মঙ্গলবার রাত পৌনে ৮টার দিকে পিরোজপুর জেলার ভান্ডারিয়া উপজেলার পশারীবুনিয়া গ্রামের সাইদুর রহমানের স্ত্রী শাহিদা বেগম খুলনা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি হন। তিনি বেশ কিছুদিন ধরে ডেঙ্গু জ্বরে ভুগছিলেন।  ডেঙ্গু ছাড়াও তিনি ডায়াবেটিস ও লিভার রোগে আক্রান্ত ছিলেন। চিকিৎসাধীন অবস্থায় বুধবার ভোরে তিনি মারা যান। 

ময়মনসিংহ 
ময়মনসিংহে ডেঙ্গু জ্বরে আক্রান্ত হাফিজুল ইসলাম (৩৫) নামে এক গার্মেন্টস কর্মীর মৃত্যু হয়েছে। তিনি ত্রিশাল উপজেলার দরিরামপুর গ্রামের ইউনুস আলীর ছেলে। বুধবার (২৮ আগস্ট) সকালে ঢাকায় নেওয়ার পথে তার মৃত্যু হয়। 

নিহতের বাবা ইউনুস আলী বলেন, আমার ছেলে হাফিজুল প্রায় দেড় মাস ডেঙ্গু জ্বরে আক্রান্ত ছিল। ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ১৪ নম্বর ওয়ার্ডে বেশ কয়েকদিন ভর্তিও ছিল। ঈদের আগে হাফিজুলের শরীরের অবস্থা কিছুটা উন্নতি হওয়ায় তাকে বাড়ি নিয়ে আসা হয়। তিনি জানান, মঙ্গলবার (২৭ আগস্ট) রাতে হঠাৎ করে তার অবস্থা খারাপ হয়ে যায়। পরে বুধবার (২৮ আগস্ট) ভোরে হওয়ায় ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে চিকিৎকরা তাকে ভর্তি না করে ঢাকা নিয়ে যাওয়ার পরামর্শ দেন। ঢাকা নেয়ার পথে ভালুকা পর্যন্ত যাওয়ার পর তার মৃত্যু হয়। 

হাসপাতালের সহকারী পরিচালক ডা. এবিএম শামসুজ্জামান সেলিম বলেন, ‘ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে কোন রোগী মারা যায়নি। বাইরে কেউ মারা গিয়েছে কিনা তা আমার জানা নেই।’

যশোর 
যশোরে একদিনে দুই ডেঙ্গু আক্রান্ত রোগীর মৃত্যু হয়েছে। মৃতরা হলেন- মনিরামপুর উপজেলার রাজবাড়িয়া গ্রামের সেকেন্দার আলীর স্ত্রী রেবেকা খাতুন (৫৫) ও যশোর সদর উপপজেলার মন্ডলগাতী এলাকার আয়ুব আলীর ছেলে সবুজ (৩২)।

নিহতের জামাই গাজী জানান, রেবেকা খাতুন কয়েকদিন ধরে অসুস্থ ছিলেন। সোমবার সকালে তাকে যশোর ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। ভর্তির পর রক্ত পরীক্ষায় ডেঙ্গুতে আক্রান্ত নিশ্চিত হই। পরে ডাক্তারা তাকে ডেঙ্গু ওয়ার্ডে পাঠিয়ে দেন। এক পর্যায়ে মঙ্গলবার রাত ৮টার দিকে কর্তব্যরত চিকিৎসক ওবায়দুল কাদির উজ্জ্বল রেবেকা খাতুনকে মৃত্যু ঘোষণা করেন।
নিহত সবুজের বাবা আয়ুব আলী জানান, তার ছেলে কয়েক দিন যাবত জ্বরে ভুগছিল। প্রথমে ধারণা করা হয়েছিল স্বাভাবিক জ্বর হয়েছে। দীর্ঘ দিন পর জ্বর না সারায় প্রথমে যশোর রক্ত টেস্ট করায় তার শরীরে ডেঙ্গু ধরা পড়েনি। ক্রমেই তার শরীরের অবস্থা অবনতি হওয়ায় তাকে ঢাকা নিয়ে রক্ত টেস্ট করে ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত হয়। ঢাকা থেকে চিকিৎসা নেওয়ার পরে তাকে বাড়ি নিয়ে আসা হয়। হঠাৎ আবারও সবুজের অবস্থার অবনতি হলে মঙ্গলবার সন্ধ্যায় তাকে যশোর ২৫০ শয্যার হাসপাতালে নিলে কর্তব্যরত ডাক্তার কাজল মল্লিক তাকে মৃত্যু ঘোষণা করেন।

যশোর ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. আবুল কালাম আজাদ ডেঙ্গুতে আক্রান্ত এক নারীর মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করলেও আর কেউ মারা গেছেন কি না তা তিনি জানাতে পারেননি। 

Admin

0 Comments

Please login to start comments