রাজনীতি

তারেককে দেশে ফিরিয়ে আনার উদ্যোগ নিয়েছে সরকার : হানিফ


সিনিউজ: একুশে আগস্ট গ্রেনেড হামলা মামলায় আদালত কর্তৃক দণ্ডপ্রাপ্ত তারেক রহমানকে দেশে ফিরিয়ে আনার উদ্যোগ নেয়া হয়েছে বলেন জানিয়েছেন আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুব-উল আলম হানিফ।

শনিবার (২৪ আগস্ট) রাজধানীর পুরান ঢাকার নয়াবাজারে একটি কমিউনিটি সেন্টারে জাতীয় শোক দিবস উপলক্ষে বংশাল থানা আওয়ামী লীগ আয়োজিত আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা জানান।

হানিফ বলেন, কারাদণ্ডপ্রাপ্ত আসামিদের দেশে ফিরিয়ে এনে শাস্তির বিধান নিশ্চিত করার উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। এ সময় তিনি বলেন, দেশবাসীর পক্ষ থেকে ওইসব দেশের রাষ্ট্র প্রধানদের কাছে অনুরোধ করে বলছি, ব্রিটিশ সরকার বা মার্কিন সরকার আপনারা কথায় কথায় মানবতার কথা বলেন। গণতন্ত্রের কথা বলেন। অথচ আজকে একজন কুখ্যাত অপরাধী, যিনি হত্যাকারী হিসেবে আদালত কর্তৃক দণ্ডপ্রাপ্ত তাকে সেল্টার দিয়ে, তার বিচারের রায় কার্যকর করতে আপনার সহায়তা না করে কোন মানবাধিকার আপনারা প্রতিষ্ঠা করছেন সেটাই আজকে আপনাদের বিবেকের কাছে প্রশ্ন।

তিনি বলেন, আপনারা মানবাধিকারের কথাই তো বলেন। সত্যিকারের মানবাধিকার যদি চান তাহলে এই সমস্ত দণ্ডপ্রাপ্ত কুখ্যাত আসাসিদের অবিলম্বে দেশে ফিরিয়ে দেয়ার ব্যবস্থা করুন। আদালত কর্তৃক এই দণ্ডপ্রাপ্ত আসামিদে রায় কার্যকর করার মাধ্যমে আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা করেই দেশে সুশাসন প্রতিষ্ঠা করার পথে এগিয়ে যেতে পারবো।

আওয়ামী লীগের এই যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক বলেন, বিএনপি অফিস থেকে সংবাদ সম্মেলন করে নির্লজ্জ মিথ্যাচার করা হয়। এ সব মিথ্যাচার করতে আপনাদের বিবেকে বাধে নাই? নাটক করার জন্য খালেদা জিয়া  সিএমএইচ হাসপাতালে গিয়েছিলেন। উনি দেখতে গেলেন আইভী রহমানকে, মৃত্যুর পথযাত্রী। খালেদা জিয়া আসবেন এই কারণে তার ছেলে এবং মেয়েকে পাশের একটা রুমে নিয়ে তালাবদ্ধ করে আটকে রাখা হলো প্রায় দুই ঘণ্টা। এত নিষ্ঠুর অমানবিক আচরণ। এটা আল্লাহ পাক সহ্য করেন নাই। সেই পাপের প্রায়শ্চিত্ত আজকে বেগম খালেদা জিয়ার করতে হচ্ছে। ভেবেছিলেন, এতিমের টাকা আত্মসাৎ করে বা এই সমস্ত অপরাধ করে কোনদিনও বিচারের কাঠগড়ায় দাঁড়াতে হবে না। আল্লাহর বিচার আছে। অপরাধ করলে যে তার শাস্তি হয়, বিচার হয়, সেটাই হচ্ছে খালেদার। 

খালেদা জিয়ার উদ্দেশে হানিফ বলেন, রাষ্ট্রীয় পৃষ্ঠপোষকতা দিয়ে, ইন্ধন নিয়ে একুশে আগস্ট গ্রেনেড হামলা করিয়েছেন আপনার সন্তানকে দিয়ে। ভেবেছিলেন জননেত্রী শেখ হাসিনাকে হত্যার মধ্য দিয়ে আওয়ামী লীগকে নিশ্চিহ্ন করে দিয়ে আপনারা আজীবন ক্ষমতায় থাকবেন। সেই স্বপ্ন আপনাদের পুরণ হয় নাই।

তিনি বলেন, আজকে আপনারাই নিশ্চিহ্ন হওয়ার পথে। আপনি আছেন কারাগারে, আপনার সন্তান আছে পলাতক হিসেবে দেশের বাইরে। এখনও ওখানে থেকে ষড়যন্ত্র করছেন।

বংশাল থানা আওয়ামী লীগের সভাপতি গোলাম মোস্তফার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত আলোচনা সভায় অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন আওয়ামী লীগের শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হাবিবুর রহমান সিরাজ, ঢাকা মহানগর দক্ষিণ শাখার সভাপতি আবুল হাসনাত, সাধারণ সম্পাদক শাহে আলম মুরাদ, প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক আকতার হোসেন, নির্বাহী সদস্য আনিস আহম্মেদসহ আরও অনেকে।

Admin

0 Comments

Please login to start comments