জাতীয়

তদন্ত  প্রতিবেদনে সংস্কৃতি সচিবের বিরুদ্ধে দুর্নীতির চিত্র


সি নিউজ ডেস্ক : আর্থিক দুর্নীতির সঙ্গে জড়িত থাকার চিত্র উঠে এসেছে বর্তমান সরকারের একজন ভার প্রাপ্ত সচিবের বিরুদ্ধে। প্রশাসনের সর্বোচ্চ পর্যায়ের এই কর্মকর্তা আবু হেনা মোস্তফা কামাল বর্তমানে সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের ভার প্রাপ্ত সচিবের দায়িত্বে রয়েছেন। একই তদন্ত প্রতিবেদনে দুর্নীতির অভিযোগে প্রাথমিক শিক্ষা অধিদফতরের আরও ১২ কর্মকর্তাকে অভিযুক্ত করা হয়েছে।

২০১৫ সালে প্রাথমিক শিক্ষা অধিদফতরে চাপা দিয়ে রাখা একটি তদন্ত প্রতিবেদন সম্প্রতি প্রকাশ পায়। ওই প্রতিবেদন হাতে পাওয়ার পর প্রতিমন্ত্রী মোঃ জাকির হোসেন অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে সরকারি আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নিতে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সচিব মোঃ আকরাম-আল-হোসেনকে নির্দেশ দিয়েছেন।

সচিব মোঃ আকরাম-আল-হোসেন এ তথ্য নিশ্চিত করে বলেন, ‘প্রতিবেদনের বিষয়টি নিয়ে কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা হচ্ছে।  প্রতিমন্ত্রীর নির্দেশনা হাতে আসার পর এ বিষয়ে ব্যবস্থা নেব। এ ধরনের দুর্নীতির সঙ্গে যারাই জড়িত, তাদের সঙ্গে আপস করার সুযোগ নেই।’
তদন্ত প্রতিবেদনে দুর্নীতির অভিযোগের প্রমাণ পাওয়ার বিষয়ে সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়ের ভারপ্রাপ্ত সচিব আবু হেনা মোস্তফা কামালের সঙ্গে বুধবার (৩ এপ্রিল) মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করা হলে ‘মিটিংয়ে আছেন’ বলে তিনি মেসেজ দিয়ে জানান।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে,  প্রাথমিক শিক্ষা অধিদফতরের টিএ/ডিএ ও সম্মানী অর্থের দুর্নীতি নিয়ে ২০১৫ সালের ১৫ অক্টোবর একটি তদন্ত  প্রতিবেদন দাখিল করেন তদন্ত কর্মকর্তা এবং ওই সময়ের উপপরিচালক (প ও উ) হুমায়ুন কবীর।

ওই তদন্ত প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, প্রাথমিক শিক্ষা অধিদফতরের ওই সময়ের অতিরিক্ত মহাপরিচালক আবু হেনা মোস্তফা কামাল (বর্তমানে সরকারের সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের ভার প্রাপ্ত সচিব) চট্টগ্রাম ও কক্সবাজার ভ্রমণে দুই দফা টিএ/ডিএ উত্তোলন করেন। একইভাবে অধিদফতরের বিভিন্ন পর্যায়ের আরও ১২ কর্মকর্তা অতিরিক্ত টিএ/ডিএ উত্তোলন করেন। প্রতিবেদনে আবু হেনা মোস্তফা কামালসহ ১২ কর্মকর্তাকে অতিরিক্ত উত্তোলিত অর্থ সরকারি কোষাগারে জমা দেওয়ার সুপারিশ করা হয়।

অভিযুক্ত ১২ কর্মকর্তার মধ্যে রয়েছেন- ওই সময়ের উপপরিচালক শেখ মোঃ রায়হান, উপপরিচালক ইফতেখার হোসেন ভুইয়া, কর্মকর্তা মিজাউল ইসলাম, আতাউর রহমান, অনুজ কুমার, সোনিয়া আকবর, সহকারী পরিচালক রাজা মিয়া, শিক্ষা অফিসার মাহফুজা বেগম, শিক্ষা অফিসার শামসুননাহার, শিক্ষা অফিসার মোঃ মজিবুর রহমান, শিক্ষা অফিসার মাহফুজুর রহমান জুয়েল এবং সহ-শিক্ষা অফিসার নজরুল ইসলাম।

প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, যেসব কর্মকর্তা এ ধরনের কর্মকান্ডে জড়িত, তাদের সঙ্গে মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারাও জড়িত। যেমন- যশোর পিটিআইয়ের সুপার মোঃ কামরুজ্জামানের কাছে তথ্য চাইলে টেলিফোনে তিনি তদন্ত কর্মকর্তার সঙ্গে অসদাচরণ করেন। এ ধরনের কর্মকান্ডে চট্টগ্রাম, সিলেট, যশোর, রাজশাহী, রংপুর ও বরিশালের উপপরিচালক ও পরিচালক পর্যায়ে ওই সময়ের কর্মকর্তারা জড়িত রয়েছেন বলে জানানো হয়। তদন্ত চলাকালে যশোর ও রাজশাহী পিটিআই থেকে তথ্য দিয়ে কোনও ধরনের সহায়তা করা হয়নি। মাঠপর্যায়ের সব তথ্য পাওয়া গেলে এই চিত্র আরও ভয়াবহ হতো বলে উল্লেখ করা হয় তদন্ত  প্রতিবেদনে।

তদন্ত প্রতিবেদনের পর্যবেক্ষণে বলা হয়েছে, একই ব্যক্তি একাধিক স্থান থেকে একই তারিখে সম্মানী, টিএ/ডিএ উত্তোলন করেছেন, যা তার  প্রাপ্য অর্থের চেয়ে বেশি। আবার বিমান ভ্রমণের ক্ষেত্রে সব বিমানবন্দরের জন্য একই পরিমাণে টিএ/ডিএ দাবি করেছেন এবং গ্রহণ করেছেন। একইসঙ্গে একই পথে ভ্রমণের ক্ষেত্রে  প্রত্যেক স্থান থেকে টিএ/ডিএ গ্রহণ করেছেন। অনেক ক্ষেত্রে উল্লিখিত স্থানে না গিয়ে বা অনুষ্ঠান শুরুর আগে টিএ/ডিএ উত্তোলন করেছেন। কোনও  প্রকার সময়সূচি উল্লেখ না করে ভ্রমণ আদেশ জারি করেছেন এবং ভ্রমণ আদেশ ছাড়া পরিদর্শন ও ভ্রমণ বিল উত্তোলন করেছেন।

অধিদফতর সূত্রে জানা গেছে, যে অভিযোগের ভিত্তিতে এই তদন্ত হয়েছিল, একই অভিযোগে আরও কর্মকর্তার বিরুদ্ধে অভিযোগ করা হয়। আবু হেনা মোস্তফা কামাল প্রাথমিক শিক্ষা অধিদফতরের মহাপরিচালক থাকার সময় তার একান্ত সচিব ফিরোজ কবিরের বিরুদ্ধেও একই ধরনের দুর্নীতির অভিযোগ উত্থাপন করা হয়। ফিরোজ কবির  প্রাথমিক শিক্ষা অধিদফতরের বর্তমান মহাপরিচালকের পিএস হিসেবে কর্মরত আছেন।

প্রাথমিক শিক্ষা অধিদফতর সূত্রে জানা গেছে, তদন্ত কর্মকর্তা হুমায়ুন কবির অধিদফতরে তদন্ত  প্রতিবেদন জমা দিলে তৎকালীন অতিরিক্ত মহাপরিচালক আবু হেনা মোস্তফা কামাল (বর্তমানে সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের ভার প্রাপ্ত সচিব) ক্ষমতার অপব্যবহার করে প্রতিবেদনটি চাপা দিয়ে রাখেন। কিন্তু বর্তমান সরকার ক্ষমতায় আসার পর নতুন প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী মোঃ জাকির হোসেনকে বিষয়টি জানানো হয়।  প্রতিমন্ত্রী অভিযোগের গুরুত্ব বিবেচনা করে তদন্ত  প্রতিবেদনটি খুঁজে বের করেন এবং ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেন। 

সিনিউজ ডেস্ক

0 Comments

Please login to start comments