ড্রাগন চাষে কৃষকের মুখে হাসি

ড্রাগন চাষে কৃষকের মুখে হাসি

সি নিউজ : নীলফামারীর ডোমার উপজেলায় ড্রাগন ফল চাষ করে কৃষকের মুখে হাসি ফুটেছে। পরীক্ষামূলকভাবে ড্রাগন চাষে সফল হয়ে বাগান সম্প্রসারণ করে আরো সাড়ে সাত হাজার চারা রোপণ করছেন এক চাষী।
সরেজমিনে কথা হয় ডোমার উপজেলার সোনারায় ইউনিয়নের খাটুরিয়া গ্রামের ‘বাহে কৃষি ফার্মের’ মালিক রিয়াসত করিমের সঙ্গে। তিনি বলেন, ‘২০১৬ সালে দেড় বিঘা জমিতে পরীক্ষামূলকভাবে ড্রাগন চাষ করি। এক বছরের সফলতায় বাগান সম্প্রসারণ করে আরো ৯ বিঘা জমিতে চারা রোপণ করেছি।’ আনুষ্ঠানিকভাবে তার মা রওশনারা বেগম ওই চারা রোপণ উদ্বোধন করেন।
‘বাহে কৃষি ফার্ম’-এর মালিক রিয়াসত করিম জানান, ‘২০ বছর ধরে কৃষি কাজের সঙ্গে যুক্ত রয়েছেন তিনি। ২০১৬ সালে পঞ্চগড়ের দেবীগঞ্জ প্রজনন বীজ উৎপাদন কেন্দ্রের মুখ্য বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা আশিষ কুমার সাহার মাধ্যমে ড্রাগন চাষে উদ্বুদ্ধ হন। এরপর ইন্টারনেটের মাধ্যমে ড্রাগন ফল চাষ সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য নেন। তারপর যশোরের চৌগাছা থেকে চারা সংগ্রহ করে প্রথমে দেড় বিঘা জমিতে রোপণ করেন। এক বছরের মধ্যে ওই গাছ থেকে যে ফল আসে তা তিন লাখের বেশি টাকায় বিক্রি করেন। ফলগুলো কিছু স্থানীয় বাজারে বিক্রির পাশাপাশি বাণিজ্যিকভাবে ঢাকা ও সিলেটের বাজারে বিক্রি করেন।
তিনি বলেন, দেড় বিঘা জমিতে বাগান করতে আমার খরচ হয় ছয় লাখ টাকা। প্রথম বছর আমি ফল পাই তিন লাখ টাকার ওপরে। প্রতিবছর এর ফলন বৃদ্ধি পাবে।
এক পরিসংখ্যান তুলে ধরে তিনি বলেন, একটি বাগান থেকে অন্তত ১০ বছর ফল পাওয়া যাবে। ওই জমিতে এক হাজার ২৪টি গাছ রোপণ করা হয়েছে। এবারে ৯ বিঘা জমিতে রোপণ করা হয়েছে সাড়ে সাত হাজার চারা।
যশোরের চৌগাছা উপজেলার ড্রাগন নার্সারির মালিক জুলফিকার সিদ্দিক বলেন, ‘ড্রাগন চাষ একটি লাভজনক ব্যবসা। উত্তরাঞ্চলের নীলফামারী জেলার ডোমার অঞ্চলের মাটি, আলো, বাতাস ড্রাগন চাষে উপযোগী। এ জাতীয় ফল খেতে সুস্বাদু ও মিষ্টি। দেশের বিভিন্ন হাটবাজারে এর চাহিদাও রয়েছে