ডা. আকাশের স্ত্রী মিতুর আবারও রিমান্ড চায় পুলিশ


সি নিউজ ডেস্ক : চট্টগ্রামে চিকিৎসক আকাশের আত্মহত্যার প্ররোচনার অভিযোগে গ্রেফতারকৃত ডাক্তার মিতুকে আবারো রিমান্ডে নিতে চায় পুলিশ।

ভারতীয় বংশোদ্ভূত মার্কিন নাগরিক প্যাটেলের সাথে সম্পর্কের বিষয়ে জানতে পেরেই, স্ত্রীর সাথে মনোমালিন্য এবং তার জেরেই আকাশ আত্মহত্যা করেছে বলে পুলিশ অনেকটা নিশ্চিত।

তবে এর সাথে মিতুর আর কোনো বন্ধুর সংশ্লিষ্টতা রয়েছে কি না জানার জন্য, দ্বিতীয় দফায় রিমান্ডে নেয়ার সিদ্ধান্ত পুলিশের।

স্বামীর আত্মহত্যার প্ররোচনায় গ্রেফতারকৃত স্ত্রী ডাক্তার মিতুর তিন দিনের রিমান্ড শেষ হয়েছে। পুলিশের দাবি, জিজ্ঞাসাবাদের প্রথম দিকে ডাক্তার মিতু দাম্পত্য জীবনে কলহের বিষয়টি এড়ানোর চেষ্টা করে।

কিন্তু আকাশ ও মিতুর মোবাইল থেকে উদ্ধার হওয়া নানা তথ্য প্রমাণ উপস্থাপনের পর মিতু অনেকটা পিছু হটতে বাধ্য হয়।

ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আবুল বাশার বলেন, ‌‘যে মোবাইলে এসএমএস বা ডকুমেন্ট ছিল, যার কারণে আকাশের আত্মহত্যা সেই এসএমএসগুলো আমরা উদ্ধার করতে পেরেছি। তবে আরো কিছু ডকুমেন্ট আছে, যেগুলো ডিলেট করে দেয়া হয়েছে সেগুলোর জন্য সিআইডির সাহায্য নিয়েছি।’

এ ঘটনায় আকাশের মা জোবেদা খাতুন বাদী হয়ে চান্দগাঁও থানায় একটি মামলা দায়ের করেন। মামলায় ডাক্তার মিতুর মাসহ ছয়জনকে আসামি করা হয়। কিন্তু এখন পর্যন্ত মিতু ছাড়া বাকিরা পুলিশের ধরা ছোঁয়ার বাইরে থেকে যাওয়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছে চিকিৎসক আকাশের ভাই।

মৃত আকাশের ভাই ডা. মঞ্জুর মোর্শেদ বলেন, আরো ডকুমেন্ট আছে। পুলিশের কাছে আছে, ফরেনসিক বিভাগে আরো কিছু বের করা হবে।


আত্মহত্যার পরপরই আকাশ এবং মিতু দু’জনেরই মোবাইল থেকে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ তথ্য রহস্যজনকভাবে ডিলিট হয়ে যায়। মুছে যাওয়া তথ্য পুনরুদ্ধারে মোবাইলের ফরেনসিক পরীক্ষার জন্য পাঠানো হয়েছে সিআইডি’র কাছে। সে সাথে দু’একদিনের মধ্যে পুনরায় রিমান্ডের আবেদন জানানো হবে আদালতে।

অতিরিক্ত উপ পুলিশ কমিশনার মিজানুর রহমান বলেন, ‘মিতুর সঙ্গে আর কার কার সম্পর্ক ছিল এছাড়া যেদিন আত্মহত্যা করে, সে দিন কি কি বিষয় নিয়ে তাদের ঝগড়া হয়েছিল তাদের উদ্দেশ্য ছিল অর্থাৎ তাদের ভবিষ্যৎ নিয়ে কি চাচ্ছিল এগুলো জানতে হবে।’

গত ৩১ জানুয়ারি ভোরে নগরীর চান্দগাঁও এলাকার বাসায় শরীরে বিষাক্ত ইনজেকশন পুশ করে আত্মহত্যা করে চিকিৎসক মোস্তফা মোরশেদ আকাশ।

তবে আত্মহত্যার আগে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে তার করুণ পরিণতির জন্য স্ত্রী ডাক্তার তানজিলা হক চৌধুরী মিতুকে দায়ী করেন তিনি।

 

সিনিউজ ডেস্ক

0 Comments

Please login to start comments