জাতীয়

ডাক্তার-রোগীর সম্পর্ক এবং সাম্প্রতিক সময়ের ঘটনা: হাসিনা আকতার নিগার


সি নিউজ:  বাংলাদেশের রোগীরা কথায় কথায় বিদেশ চলে যায় চিকিৎসা করাতে।বিত্তবানদের এদেশের চিকিৎসা ব্যবস্থার উপর ভরসা নেই বলে দেখা যায় সামান্য স্বাস্থ্য পরীক্ষাও বিদেশে করায়।আর জটিল রোগের বেলাতে তো কথাই নাই। দেশের মধ্যবিত্ত শ্রেনী উন্নতর দেশে না পারলেও ছুটে যায় ভারতে।এমনকি দেখা যায় মরাপন্ন রোগী ভারত থেকে ফিরে এসে হাসিমুখে বলে, যে ভয় দেশে পেয়েছে ঠিক তার উল্টাটা ঘটেছে বিদেশে। কিন্তু কেন এমন হয় এ প্রশ্ন নিয়ে ভাবার প্রয়োজন অতীতে যেমন ছিল এখন আরো বেশী দরকার মনে হয় চট্রগ্রামের ম্যাক্স হাসপাতালের ঘটনাকে কেন্দ্র করে। সাংবাদিকের সন্তান রাইফার ভুল চিকিৎসাকে কেন্দ্র করে সাংবাদিক চিকিৎসক দু পক্ষের মারমুখী অবস্থান জনগনকে করেছে আতংকিত। ডাক্তার সেবার ব্রত নিয়ে আসে চিকিৎসা পেশাতে।কিন্ত যত্র তত্র নামে বেনামে বেসরকারি হাসপাতাল ক্লিনিক গুলো সেবাকে বাণিজ্যতে পরিনত করেছে।আর সে সাথে যুক্ত হয়েছে চিকিৎসকদদের দলীয় রাজনীতি। রাইফার ঘটনাতে যা চোখে আংগুল দিয়ে দেখিয়ে দিয়েছে জনগনকে। স্বাস্থ্য মন্ত্রনালয়ের তদন্ত প্রতিবেদনে উঠে এসেছে হাসপাতাল ও চিকিৎসকের দায়িত্ব অবহেলা আর ভুলের কথা।এখন হুমকি দাতা চিকিৎসকরা কাকে হুমকি দিবে? রাইফার জন্য সাংবাদিক স্বজনরা প্রতিবাদ করেছে।কিন্তু কত নিরীহ জনগন প্রতিনিয়ত এমন করে অবহেলা আর ভুলের কারনে প্রান দিচ্ছে তার খবর ক'জনে রাখে। প্রতি বছর বছর শত শত ছেলেমেয়ে চিকিৎসা বই পড়ে চিকিৎসক হচ্ছে।কিন্তু ঈশ্বরের পর যে চিকিৎসকের অবস্থান বলা হয় তা ধারন করতে পারছে না বলে তারা মানবিকতা বোধকে ভুলে যায়।'আমি ডাক্তার, আমি না দেখলে তুমি মরে যাবে' - এ দাম্ভিকতা ধারন করে চেম্বারে বসে থাকা চিকিৎসকের সাথে রোগীর বন্ধুত্ব সুলভ সম্পর্ক হয় না।বরং বড় ডাক্তারের সময় তদবির করে নিয়ে তাকে দেখাতে পারাটাই বড় কথা হয়ে যায় রোগীদের কাছে।রোগীর শরীর মনকে যাচাই বাছাই করার অত সময় ডাক্তার সাহেবের নাই। এমনো দেখা যায় একজন ডাক্তার রাত ৩/৪ টা পর্যন্ত চেম্বার করে। আবার নাটক যাত্রা শিল্পিদের মত তিনি বন্ধের দিন বিভিন্ন জেলাতে খেপে গিয়ে চেম্বারে রুগী দেখেন। একজন মানুষের স্বাভাবিক নিয়মে বিশ্রাম ঘুমের দরকার আছে।ডাক্তারের বেলাতে এ নিয়মের ব্যতয় হবার কথা নয়।কিন্তু না সেবা পেশা যখন ব্যবসাতে পরিনিত হয় তখন সেবাতে ভুল ভ্রান্তি বাড়াবে এটাই স্বাভাবিক। কিন্তু এখনো কিছু কিছু বিজ্ঞ চিকিৎসক আছেন বলে হয়ত দেশের অসহায় মানুষ চিকিৎসা পায়।তবে এদের হার ক্রমশ কমছে। এমতাবস্থায় বিদেশের চিকিৎসক হাসপাতাল গুলোর যদি ফিরে তাকাই তবে ভাবিত হয় কিসের ঘাটতি দেশের চিকিৎসা ব্যবস্থায়। বিদেশে চিকিৎসক, হাসপাতাল গুলো রোগীদেরকে শুধু যন্ত্র আর ওষুধ দিয়ে চিকিৎসা করে না। সাময়িক সময়ের জন্য হলেও তারা তাদের আচরনে রুগীকে আপন জন করে নেয়।এমন কি দেখা যায় চিকিৎসাধীন রোগীর ফোন কল ই মেইল এর জবাব দিচ্ছে যথা সময়ে। সামান্য তম সমস্যতে সে রোগীর পরিবারকে জানাবে।তার উপরে যে বিয়ষটিতে জোর দেয় তা হল রোগী ও তার পরিবারকে রোগ সম্পর্ককে কাউন্সিলিং করানো।একটা অপারেশনের আগে রীতিমত উভয় পক্ষ মিটিং করে জানে তাদের কি কি হতে পারে বা হতে পারে না।অত্যন্ত শ্রদ্ধার সাথে প্রতিটি প্রশ্নের উত্তর দেয় রোগী পক্ষের। বিরক্ত শব্দটি প্রকাশ পায় না ডাক্তারের আচরনে।একজন সাধারন মানুষ ডাক্তারি ভাষা বুঝবে না এটাই স্বাভাবিক কিন্তু রুগী বা তার পরিবারকে বুঝানোর মত করে বলাটা ডাক্তারের দায়িত্ব। বিদেশে যে হাসপাতালে রোগী মারা যায় না তা কিন্তু নয়। তবে সেখানে এমন পরিস্থিতির জন্য রোগির পরিবারকে যখন প্রস্তত করা হয় তখন ডাক্তারকে দায়ী করার আগে ভাবতে হয় একবার। ভুল চিকিৎসা ভুল রিপোর্ট বাংলাদেশে অহরহ ব্যাপার। এর জন্য দায়ী অদক্ষতা এবং উন্নত যন্ত্রপাতির অভাব। সরকারী ভাবে চিকিৎসাখাতে বরাদ্দকৃত অর্থ এর যথাযথ ব্যবহার হয় না বলে সরকারি হাসপাতাগুলি সেবাদানে অক্ষম।তার উপর সরকারী চিকিৎসক দের কাছে লোভনীয় স্থান প্রাইভেট প্র‍্যাকটিস। আর একভাবে দেখা যায় আনুপাতিক হারে বিদেশে চিকিৎসা দেশের তুলনায় ব্যয় বহুল। তারপরে অর্থ ব্যয় করে মানুষ স্বস্তি পায় তাদের সুষ্ঠু চিকিৎসা ব্যবস্থাপনার কারনে। দেশ এগিয়ে যাচ্ছে যেখানে সেখানে মানুষের অন্যতম চাহিদার চিকিৎসা খাতের পরিবর্তন হওয়া অতীব জরুরী। রাইফা চলে গেছে তার মায়ের কোল ছেড়ে আর তার এ চলে যাওয়াতে যারা দায়ী তার বিরুদ্ধ যথাযথা ব্যবস্থা নিলে আগামী তে চিকিৎসক জনগন পরস্পরের বিপক্ষে দাঁড়াবে না এটা সবাইকে বুঝতে হবে। চিকিৎসক সমাজ মানুষকে সেবা না দিলে মানুষের জীবন বিপন্ন হবে এটা যেমন ঠিক তেমন তাদের ভুলে গেলে চলবে না ' সেবাই আমার ব্রত ' এ অংগীকার নিয়ে এসেছে চিকিৎসা পেশাতে।তাই একজন রোগীর পাশে দেবতার দাম্ভিকতা নয় বরং সেবকের ভুমিকা নিয়ে সেবা দিতে হবে। বিপন্ন মানুষের শরীর সুস্থতার চেয়ে মনের বন্ধু হয়ে উঠতে হবে। তবেই পারস্পরিক বন্ধনে ভরসা পাবে রোগী এবং দায়বদ্ধতা আসবে চিকিৎসকের পেশাতে।

Admin

0 Comments

Please login to start comments