দেশজুড়ে

টানা বর্ষণে ঘর হারা ৩ শতাধিক রোহিঙ্গা, নিহত ২


 

সি নিউজ: টানা চার দিনের ঝড়ো হাওয়া ও বৃষ্টিতে কক্সবাজারের উখিয়া রোহিঙ্গা ক্যাম্পে পাহাড়ধসের ঘটনা ঘটেছে। এতে ক্যাম্পের অন্তত ৩ শতাধিক ঘর পানিতে তলিয়ে ও বিধ্বস্ত হয়েছে গেছে।  এছাড়া এই প্রাকৃতিক দুর্যোগে গতকাল ও আজ রোহিঙ্গা শিশু ও যুবকের মৃত্যু হয়েছে।  জানা যায়, উখিয়া উপজেলার জামতলী এলাকায় গাছ চাপা পড়ে মোহাম্মদ আলী নামে রোহিঙ্গা যুবকের মৃত্যু হয়। এ ব্যাপারে উখিয়া থানার ওসি মো. আবুল খায়ের বলেন, মঙ্গলবার সকালে ঝড়ো হাওয়ার সময় গাছ চাপা পড়ে রোহিঙ্গা যুবক মোহাম্মদ আলীর মৃত্যু হয়। তার মরদেহ উদ্ধার করে ক্যাম্পের একটি হাসপাতালে রাখা হয়েছে।  অপরদিকে সোমবার কুতুপালং এলাকার ৭ নম্বর ক্যাম্পের আবদুস শুক্কুরের বাড়ির মাটির দেয়াল বৃষ্টিতে ভিজে ভেঙে পড়ে তার ঘুমন্ত ২ বছর বয়সী সন্তানের মৃত্যু হয়। টানা বৃষ্টিতে সবচেয়ে বেশি বিধ্বস্ত হয়েছে বালুখালী, টিভি রিলে কেন্দ্র লাগোয়া এলাকা, ক্যাম্প ৫ ও ১৭ এলাকায়। পাশাপাশি আহত হয়েছে কয়েকজন রোহিঙ্গা। পাশাপাশি বৃষ্টির পানিতে ডুবে গেছে বালুখালীসহ নিচু এলাকার কয়েকটি রোহিঙ্গা ক্যাম্প। উখিয়ার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. নিকারুজ্জামান চৌধুরী  জানান, কুতুপালং ক্যাম্পের ডি-ফোর এবং ডি-সেভেন ব্লকে ঝড়ো বাতাস ও পাহাড়ধসে ৩ শতাধিক ঘর বিধ্বস্ত হয়েছে। পাহাড়ধসের পাশাপাশি ভারি বৃষ্টিতে ক্যাম্পের কয়েকটি নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে। কক্সবাজার রোহিঙ্গা শরণার্থী ত্রাণ ও প্রত্যাবাসন কমিশনার মো. আবুল কালাম জানান, টানা বৃষ্টির কারণে ক্যাম্পে ছোট-খাটো ভূমিধসের ঘটনা ঘটছে। বিধ্বস্ত হয়েছে বেশকিছু রোহিঙ্গার ঘর।  স্থানীয় আবহাওয়া অফিস জানিয়েছেন, উত্তর বঙ্গোপসাগরে মৌসুমী বায়ুর প্রভাবে গভীর সঞ্চালনশীল মেঘমালা সৃষ্টি অব্যাহত রয়েছে। এতে উত্তর বঙ্গোপসাগর, বাংলাদেশের উপকূলীয় এলাকা এবং সমুদ্র বন্দরসমূহের উপর দিয়ে ঝড়ো হাওয়া বয়ে যেতে পারে। চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, মংলা ও পায়রা সমুদ্রবন্দরসমূহকে ৩ নম্বর স্থানীয় সতর্কতা সংকেত দেখিয়ে যেতে বলা হয়েছে। পরবর্তী নির্দেশ না দেয়া পর্যন্ত বঙ্গোপসাগরে অবস্থানরত মাছ ধরার নৌকা ও ট্রলারসমূহকে নিরাপদ আশ্রয়ে থাকতে বলা হয়েছে।  এদিকে টেকনাফ ও উখিয়া উপজেলার বেশ ক’জন রোহিঙ্গারা জানিয়েছেন, অতিবৃষ্টির কারণে তাদের কষ্টের অন্ত নেই। নির্ঘুম রাত ও কাদা মাটি মাড়িয়ে প্রয়োজনীয় স্থানে যাতায়াত করতে হচ্ছে। পাশাপাশি আবার অনেক রোহিঙ্গা ঠিকমত খাবার পাচ্ছেন না।

 

Admin

0 Comments

Please login to start comments