জাতীয়

জাতীয় জন্ম নিবন্ধন দিবস


ড. আসাদুজ্জামান খান ॥ আজ ৩ জুলাই জাতীয় জন্ম নিবন্ধন দিবস। প্রতি বছরের মতো এবারো দেশে দিবসটি পালিত হচ্ছে। দেশের ৬৪টি জেলার সব নিবন্ধন কার্যালয় এবং দূতাবাসে অনলাইনে জন্ম ও মৃত্যু নিবন্ধন কার্যক্রম চলমান। ২০১০ সাল থেকে দেশে অনলাইনে জন্ম নিবন্ধন কার্যক্রম শুরু হয়। বাংলাদেশ দুর্বার গতিতে এগিয়ে চলছে। অধিক জনসংখ্যার এই দেশে জন্ম নিবন্ধন কার্যক্রম খুবই সময়োপযোগী ও প্রয়োজনীয়। জন্ম ও মৃত্যু নিবন্ধন আইন ২০০৪ ও জন্ম ও মৃত্যু নিবন্ধন বিধিগুলো ২০০৬ অনুসারে দেশের নাগরিকদের জন্য পাসপোর্ট করা, বিবাহ নিবন্ধন, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ভর্তি, সরকারি-বেসরকারি ও স্বায়ত্বশাসিত প্রতিষ্ঠানে নিয়োগ, ড্রাইভিং লাইসেন্স, ভোটার তালিকা  প্রণয়ন, জমি রেজিস্ট্রিকরণ, জাতীয় পরিচয় পত্র, জীবন বীমা পলিসিসহ মোট ১৮টি ক্ষেত্রে বয়স প্রমাণের জন্য জন্ম নিবন্ধন সনদের ব্যবহার বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। অনুরূপভাবে উত্তরাধিকার সনদ, পারিবারিক পেনসন, মৃত ব্যক্তির জীবন বীমা দাবি ও নামজারি এবং জমিজমা ভাগ প্রাপ্তির ক্ষেত্রে মৃত্যু নিবন্ধন সনদের ব্যবহারও বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। জন্ম ও মৃত্যু নিবন্ধন আইন ২০০৪ এর ৮(১) ধারা অনুসারে শিশুর জন্মের ৪৫ দিনের মধ্যে জন্ম নিবন্ধন এবং ৮(২) ধারা অনুসারে যে কোনো মৃত্যুর ৪৫ দিনের মধ্যে মৃত্যু নিবন্ধন বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। মেয়ে বা ছেলেদের বাল্যবিবাহ রোধ করার ক্ষেত্রেও  জন্ম নিবন্ধন করা জরুরি। ১৮৭৩ সালের ২ জুলাই ব্রিটিশ সরকার অবিভক্ত বাংলায় জন্ম নিবন্ধন সংক্রান্ত  আইন জারি করে। এরপর ২০০১-২০০৬ সালে ইউনিসেফ ও বাংলাদেশ সরকার পাইলট প্রকল্পের মাধ্যমে ২৮টি জেলায় ও ৪টি সিটি করপোরেশনে জন্ম নিবন্ধনের কাজ শুরু করে। যা বর্তমানে সারাদেশে বাস্তবায়িত হচ্ছে। বর্তমান সরকার যে ডিজিটাল বাংলাদেশ বাস্তবায়ন করছে সেক্ষেত্রে জন্ম ও মৃত্যু নিবন্ধন কার্যক্রম যথেষ্ট সহায়ক।

 

Admin

0 Comments

Please login to start comments