দক্ষিণ এশিয়া

চীন-ভারত সীমান্ত: সৈন্য প্রত্যাহার চুক্তির পরও কেন সতর্ক থাকতে হবে


সিনিয়র চীনা ও ভারতীয় কর্মকর্তারা গত মাসের বিরোধপূর্ণ সীমান্তে প্রাণঘাতী সঙ্ঘাতের পর সৈন্য প্রত্যাহার নিয়ে আরো আলোচনা করেছেন। তবে এখনো কোনো রূপরেখা প্রণয়ন করতে পারেননি। সামরিক সূত্র ও পর্যবেক্ষকেরা হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে বলেছেন, সামনের দিনগুলোতে অবস্থা আরো কঠিন হবে।

ভারতীয় সেনাবাহিনীর সূত্র জানিয়েছে, দুই পক্ষ গত দুই মাস ধরে দখলে রাখা অবস্থানগুলো থেকে প্রত্যাহারের সিদ্ধান্ত নিয়েছে দুই পক্ষ। কিন্তু তারা একে সাময়িক পদক্ষেপ হিসেবে গ্রহণ করে বলেছেন, রাজনীতিবিদেরা উত্তেজনা প্রশমনে আরো স্থায়ী পদক্ষেপ গ্রহণ করবেন।

বিশ্লেষকেরা সোমবার রাতে চীনা পররাষ্ট্রমন্ত্রী ওয়াং ইয়ি ও ভারতীয় জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা অজিত দোভালের মধ্যে আলোচনার পর ইস্যু করা বিবৃতিগুলোর মধ্য পার্থক্য লক্ষ্য করেছেন। কেউ কেউ বলছেন, চীন এখনো ভারতকে আগ্রাসী হিসেবে বলছে।

ভারতীয় সেনাবাহিনীর এক কর্মকর্তা বলেন, প্রত্যাহারের অর্থ হলো দুই পক্ষ আর তাদের অগ্রবর্তী অবস্থানে থাকবে না।

তিনি বলেন, তারা অবস্থানের আলোকে নির্দিষ্ট দূরত্বে চলে যাবে।

ভারতীয় মিডিয়া আরো জানায়, দুই দেশ একটি বাফার জোন সৃষ্টিতে একমত হয়েছে। দুই দেশ উভয়পক্ষের জন্য আরো ভালো টহলদান ব্যবস্থায় একমত না হওয়া পর্যন্ত এই জোনে টহল দেবে না।

ওই সেনা কর্মকর্তা বলেন, প্রত্যাহার প্রক্রিয়াটির পর এখন রাজনৈতিক পর্যায়ে আলোচনা প্রয়োজন।

সেনাবাহিনীর কর্মকর্তারা বলেন, রাজনৈতিক নেতৃত্বের মধ্যে আলোচনার আগে এটি হলো সাময়িক সমঝোতা। 

চীন ও ভারত উভয়েই তাদের দীর্ঘ সীমান্তে একে অপরের বিরুদ্ধে ভূমি দখলের অভিযোগ আনছে।

গত দুই মাস ধরে লাইন অব অ্যাকচুয়াল কন্ট্রোলে তাদের সৈন্যরা মুখোমুখি অবস্থায় রয়েছে। গত ১৫ জুন প্যাংগং সো লেকে উভয় পক্ষের সংঘর্ষে ২০ ভারতীয় সৈন্য নিহত হয়। কয়েক দশকের মধ্যে এটিই ছিল এই দুই দেশের মধ্যে সবচেয়ে মারাত্মক সঙ্ঘাত।

পর্যবেক্ষকেরা বলছেন, দোভাল ও ওয়াঙের মধ্যকার আলোচনার পর ইস্যু করা বিবৃতিতে পার্থক্য দেখে মনে হচ্ছে, আগামী দিনের জন্য সমস্যা বাড়বে।

নয়া দিল্লি ভিত্তিক সেন্টার ফর পলিসি রিসার্চের অধ্যাপক ব্রাহ্ম চেলানি বলেন, চীনাদের ইস্যু করা বিবৃতি অনুযায়ী ভারত ভুল করেছে।

তিনি বলেন, ভারতকে আগ্রাসী হিসেবে অভিহিত করে চীন জোর দিয়ে বলেছে যে তারা তাদের আঞ্চলিক সার্বভৌমত্ব দৃঢ়ভাবে সুরক্ষা করবে। অর্থাৎ, চীন বলছে, তারা তাদের নতুন ভূখণ্ডগত সুবিধাকে রক্ষা করে যাবে।

দিল্লির জওহেরলাল বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিরক্ষা বিশ্লেষক সরন সিং বলেন, জুনের প্রাণঘাতী সঙ্ঘাতের পর ভারত ও চীন উভয়ে প্রত্যাহারের ওপর জোর দিয়েছে। কিন্তু বাস্তবতা হলো, উভয় পক্ষ তাদের শক্তি বাড়িয়েছে।

সিং হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে বলেন যে প্রত্যাহার প্রক্রিয়াটি কঠিন হতে পারে এবং এতে আরো সঙ্ঘাতের ঝুঁকি থাকতে পারে।

সোমবারের বিবৃতিতে দুই দেশ যত দ্রুত সম্ভব সমঝোতায় পৌঁছার ওপর জোর দিয়েছিল, কিন্তু বিস্তারিত কিছুই বলেনি।

ভারতীয় পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানায়, ওয়াং ও দোভাল এলএসিজুড়ে সৈন্য প্রত্যাহার যত দ্রুত সম্ভব সম্পূর্ণ করা এবং ভারত-চীন সমীমান্ত এলাকার উত্তেজনা প্রশমন করে শান্তি ও স্থিতিশীলতা প্রতিষ্ঠার প্রয়োজনীয়তার ব্যাপারে একমত হয়েছে।

ফুদান বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ও ভারতে নিযুক্ত সাবেক চীনা কূটনীতিবিদ ঝাং জিয়াদং অবশ্য এই সমঝোতা বাস্তবায়নের ব্যাপারে খুবই আশাবাদী। 

তিনি বলেন, জুনের শুরুতে যে ধরনের বৈরী পরিবেশ দেখা গিয়েছিল, তার তুলনায় এই সমঝোতা অনেক বেশি আশাবাদ সৃষ্টি করছে। 

সুত্র : এসসিএমপি

সিনিউজ ডেস্ক

0 Comments

Please login to start comments