আন্তর্জাতিক

চীনের ‘রহস্যময়’ ভাইরাস এবার যুক্তরাষ্ট্রে


চীনের ‘রহস্যময়’ ভাইরাস এবার ছড়িয়েছে যুক্তরাষ্ট্রে। নতুন এই করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত প্রথম রোগী শনাক্ত করার কথা জানিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। ভাইরাসের সংক্রমণ ঠেকাতে ইতিমধ্যে উহান শহর সফরে নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে চীনা কর্তৃপক্ষ। 

চীন থেকে সিয়াটলে আসা এক মার্কিন অধিবাসী এ ভাইরাসে আক্রান্ত বলে যুক্তরাষ্ট্রের রোগ নিয়ন্ত্রণ কেন্দ্রের (সিডিসি) বরাত দিয়ে সংবাদ প্রকাশ করেছে ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসি।

ওই প্রতিবেদনের বলা হয়েছে, করোনা ভাইরাসে সংক্রমিত ওই মার্কিন অধিবাসীর বয়স ৩০ বছর। গত ১৫ জানুয়ারি তিনি উহান থেকে সিয়াটলে ফেরেন। অসুস্থ হয়ে ওই রোগী হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে গেলে রোগের লক্ষণ এবং রোগীর ভ্রমণ ইতিহাস দেখে প্রাথমিকভাবে করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত বলে সন্দেহ করেন চিকিৎসকরা।

পরে গবেষণাগারে পরীক্ষা ও ক্লিনিক্যাল নমুনা থেকে ২০ জানুয়ারি ভাইরাস আক্রান্তের বিষয়টি নিশ্চিত হওয়া যায়। ওয়াশিংটন অঙ্গরাজ্যে ওই রোগীকে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।  

এই করোনা ভাইরাস যুক্তরাষ্ট্রে শনাক্ত হওয়ার আগে থাইল্যান্ডে দুজন, জাপান, দক্ষিণ কোরিয়া ও তাইওয়ানে একজন করে এ ভাইরাসে সংক্রমিত রোগী শনাক্ত করা হয়। তারা প্রত্যেকে চীনের উহান শহর থেকে ফিরেছিলেন। চীনের উহান শহরে স্থানীয় একটি সামুদ্রিক মাছের বাজার থেকে এই ভাইরাসটি ছড়িয়েছে। এখন পর্যন্ত এই ভাইরাসে ৪৪০ জন আক্রান্ত হয়েছে, যার মধ্যে নয়জনের মৃত্যু হয়েছে।

এ ভাইরাসের প্রাদুর্ভাব ঠেকাতে গত সপ্তাহ থেকে যুক্তরাষ্ট্রের সান ফ্রানসিসকো, লস অ্যাঞ্জেলেস এবং নিউইয়র্ক বিমানবন্দরে উহান হতে আগত যাত্রীদের স্বাস্থ্য পরীক্ষার ব্যবস্থা করা হয়েছে। অস্ট্রেলিয়া, সিঙ্গাপুর, হংকং, তাইওয়ান ও জাপানের বিমান বন্দরেও একই ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। এ ছাড়া সতর্কতামূলক ব্যবস্থা হিসেবে উত্তর কোরিয়া বিদেশি পর্যটকদের জন্য তাদের সীমান্ত সাময়িকভাবে বন্ধ করে দিয়েছে। 

ভাইরাসটির সংক্রামণে শ্বাসকষ্ট দেখা দেয়। বিজ্ঞানী ও গবেষকরা প্রাথমিকভাবে ধারণা করছেন, বাজার অথবা মার্কেটের মতো জায়গা থেকে এটি বেশি ছড়ায়; কিন্তু প্রকৃতপক্ষে এর গতিবিধি ও এক দেহ থেকে আরেক দেহে কীভাবে ছড়ায় এটি এখনো অস্পষ্টই রয়ে গেছে। নতুন এ ভাইরাসটি করোনা ভাইরাস গোত্রের।

এর আগে ২০০০ সালে একই গোত্রের সার্স ভাইরাসে ৭৭৪ জনের মৃত্যু হয়েছিল, যাদের অধিকাংশই এশিয়া মহাদেশের। বিশ্লেষকরা বলছেন, নতুন ভাইরাসটির জেনেটিক কোড সার্স ভাইরাসের বেশ কাছাকাছি।

সিনিউজ ডেস্ক

0 Comments

Please login to start comments