বিনোদন

চলচ্চিত্রে নিজেকে প্রতিষ্ঠা করার স্বপ্ন দেখি : মিষ্টি মারিয়া


সি নিউজ ডেস্ক : ঢাকার চলচ্চিত্রের নতুন চমক সুন্দরী গ্ল্যামারাস নায়িকা মিষ্টি মারিয়া। আসন্ন ঈদেই তার চিত্রনায়িকা হিসেবে অভিষেক ঘটছে। যদিও শোবিজ মিডিয়ায় মুন্সীগঞ্জের গজারিয়ার এই মেয়েটি নতুন নন। ইতোমধ্যে তার বিশেষ পরিচিতি গড়ে উঠেছে বিজ্ঞাপনচিত্রের মডেল হিসেবে।

অন্যদিকে মিষ্টি মারিয়া অভিনয় করেছেন কিছু নাটকেও। তবে আপাতত নৃত্যপটিয়সী আলোচিত নতুন এই চিত্রনায়িকার ধ্যান জ্ঞান কেবলই চলচ্চিত্রজুড়ে। আর সেই ভাবনা নিয়েই শৈশব থেকে বড় হয়েছেন, মিডিয়ায় এসেছেন। মিষ্টি মারিয়ার জন্যে আসন্ন ঈদ বিশাল আনন্দের। দারুণ খুশির।

তার অভিনীত দুটি সিনেমা এই ঈদুল ফিতরে দেখতে পাবেন চলচ্চিত্র প্রেমী দর্শকরা। তার অভিনীত আমীরুল ইসলাম পরিচালিত “আলোয় ভুবন ভরা” ও শহীদুল আলম সাচ্চু পরিচালিত “ভালোবাসার উত্তাপ” ছবি দুটি ঈদ অনুষ্ঠানমালায় চ্যানেল আইয়ের পর্দায় ওয়ার্ল্ড প্রিমিয়ার হবে।

জানা গেছে, টিভি পর্দায় ওয়ার্ল্ড প্রিমিয়ারের পাশাপশি কয়েকটি সিনেমা হলেও ছবি দুটি মুক্তি পাওয়ার কথা রয়েছে। আশার খবর হলো এটাই যে, নতুন নায়িকা হয়েও একই ঈদে দুটি ছবির মাধ্যমে চিত্রনায়িকা হিসেবে অভিষিক্ত হচ্ছেন মিষ্টি মারিয়া। দুটি ছবিতেই তার চরিত্র প্রধান নায়িকার।

আর তার অভিনীত দুটি ছবিই প্রযোজনা করেছে ইমপ্রেস টেলিফিল্ম। এর আগে ঢাকার চলচ্চিত্রে একসঙ্গে ঈদে দুটি ছবির মাধ্যমে চিত্রনায়িকা হিসেবে অভিষিক্ত হয়েছিলেন চিত্রতারকা বুবলী। এক্ষেত্রে মিষ্টি মারিয়াও রেকর্ড সৃষ্টি করলেন।

মুক্তি প্রতীক্ষিত ছবি দুটিতে তার চরিত্র কেমন জানতে চাইলে মিষ্টি মারিয়া বলেন, “আলোয় ভুবন ভরা” ও “ভালোবাসার উত্তাপ” দুটিতে ছবিতে আমার চরিত্রের দুই ধরনের। দুটি চরিত্রই দারুন। আমি চরিত্রানুগ সুঅভিনয়ের চেষ্টা করেছি। “আলোয় ভুবন ভরা” চলচ্চিত্রে আমার চরিত্রের নাম আলো।

এখানে চঞ্চল, দুষ্টু ও সাহসী এক মেয়ের চরিত্রে রূপদান করতে হয়েছে আমাকে। অনেক বৈচিত্র্য রয়েছে আলো চরিত্রে। অন্যদিকে “ভালোবাসার উত্তাপ” চলচ্চিত্রে মিষ্টি মারিয়ার অভিনীত চরিত্রের নাম ছুটি। এটিও চঞ্চল এক মেয়ের চরিত্র। তবে মেয়েটি শারীরিকভাবে অসুস্থ থাকার পরও ভালোবাসার মানুষটি তাকে ভালোবাসে। কিন্তু এক সময় মেয়েটা জানতে পারে সে মারা যাবে।

এ চরিত্রটি নিয়ে তিনি বলেন, দারুণ একটি গল্প। দুটি ছবি নিয়েই আমি দারুণভাবে আশাবাদী। আমার বিশ্বাস আমার অভিনীত ছবি দুটি দর্শকদের ভালো লাগবে। দর্শকরা আমার অভিনয়ে মুগ্ধ হলেই আমি দারুণ খুশি হব।

মিষ্টি মারিয়ার কাছে পাল্টা প্রশ্ন ছিল এতটা আত্মবিশ্বাসী হলেন কী করে? তিনি বলেন, ছবি দুটির শুটিং থেকে শুরু করে এডিটিং ডাবিং যারাই দেখেছেন, তারাই প্রশংসা করেছেন। তাছাড়া গান আর প্রমোশনাল দেখেও সবাই প্রশংসা করছেন। বলতে পারেন, সবার কাছ থেকে ইতিবাচক প্রতিক্রিয়া পাচ্ছি। সবার প্রতিক্রিয়ায় আমি যেমন মুগ্ধ, তেমনি তাদের ইতিবাচক প্রতিক্রিয়া আমাকে আত্মবিশ্বাসী করে তুলছে।

কথায় কথায় মিষ্টি মুখের মিষ্টি মেয়ে মিষ্টি মারিয়া জানান, তিনি চলচ্চিত্রে নিয়মিত কাজ করতে চান। এ জন্যেই চলচ্চিত্রকে তিনি প্রাধান্য দিচ্ছেন। তিনি বলেন, এই দুটি ছবি দিয়ে আমার অভিষেক ঘটলেও এই দুটি ছবির আগে আমি আরো দুটি ছবিতে অভিনয় করেছি। প্রথম ছবি হলো আহমেদ ইলিয়াস ভূইয়া পরিচালিত “মানুষ কেন অমানুষ হয়”। দ্বিতীয় ছবির নাম “কবে হবে দেখা”। এটির নির্মাতা প্রয়াত পরিচালক শাহেদ চৌধুরী।

তিনি জানান, সম্প্রতি নতুন দুটি ছবিতে অভিনয়ের কথা প্রায় চূড়ান্ত হয়েছে। দুটি ছবিই হবে মূলধারার বাণিজ্যিক ছবি। সবকিছু ঠিক থাকলে ঈদের পর এসব ছবির কাজ শুরু হবে বলে জানান এই আলোচিত মডেল অভিনেত্রী। মিষ্টি মারিয়া আরো জানান, “ভালোবাসার উত্তাপ” ছবিতে তার বিপরীতে অভিনয় করেছেন মডেল ও চিত্রনায়ক ইমন। আর “আলোয় ভুবন ভরা” ছবিতে মিষ্টি মারিয়ার পর্দা জুটি সাইফ খান।

মূলত নাচের মেয়ে মিষ্টি মারিয়া। শৈশব থেকেই শিল্পকলা একাডেমিতে তিনি নাচ শিখেছেন। তখন থেকেই তার চলচ্চিত্রের নায়িকা হওয়ার স্বপ্ন। তবে পরিণত বয়সে মিডিয়ায় আসেন মডেলিংয়ের মাধ্যমে। বিজ্ঞাপনচিত্রে মডেলিংয়ের মাধ্যমে মিডিয়ায় অভিষিক্ত মিষ্টি মারিয়া যমুনা ব্যাংকের বিজ্ঞাপনচিত্রে প্রথম মডেল হন। এরপর প্রাণ আরএফএল, মিতালী থ্রিপিস, সুরেশ সরিষার তেল, লেজার চেইন স্কিন কেয়ার, অনলাইন ভিসাসহ অনেক বিজ্ঞাপনচিত্রে মডেল হিসেবে দেখা গেছে এই সুদর্শনাকে।

অন্যদিকে পত্রিকা, ম্যাগাজিন, বিভিন্ন ফ্যাশন হাউসের স্টিল মডেল হয়েছেন নিউ ট্যালেন্ট গ্ল্যামার গার্ল মিষ্টি মারিয়া। তিনি জানান, অভিনয় ও মডেলিংয়ের বাইরে লেখালেখিও করেন। তার লেখা অনুউপন্যাস “কন্যা” সিটি আনন্দ আলো সাহিত্য পুরস্কার পেয়েছে গেল বছর। এটি ২০১৮-এর একুশে বইমেলায় প্রকাশিত হয়েছে। এই অভিনেত্রীর লেখা আরেকটি উপন্যাস “আলেয়া” অবলম্বনে একটি চলচ্চিত্র নির্মাণের প্রস্তুতি চলছে।

সবশেষে মিষ্টি মারিয়া বলেন, বিজ্ঞাপনচিত্রের মডেলিংয়ের সুবাদে শোবিজে এসে আমি কয়েকটি টিভি নাটকে অভিনয়ের পর চলচ্চিত্রে এসেছি। তবে এখন আর নাটকে অভিনয় করছি না। চলচ্চিত্রে নিজেকে প্রতিষ্ঠা করার স্বপ্ন দেখি বলেই চলচ্চিত্রকেই প্রাধান্য দিচ্ছি। এর পাশাপাশি মডেলিং চালিয়ে যাব। তবে ইচ্ছে আছে চলচ্চিত্র ও বিজ্ঞাপনচিত্রে কাজের পাশাপাশি ওয়েব সিরিজে কাজ করার। কারণ ওয়েব সিরিজ এখন বিশ্বব্যাপী ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মের সেরা বিনোদন মাধ্যম। বিশ্বব্যাপী তারকারা এখন ওয়েব সিরিজে যুক্ত হচ্ছেন।

Admin

0 Comments

Please login to start comments