বাংলাদেশ

চকবাজার ট্র্যাজেডি: দগ্ধ আরও দুইজনের মৃত্যু


সি নিউজ ডেস্ক : পুরান ঢাকার চকবাজারে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় দগ্ধ আরও দুইজনের মৃত্যু হয়েছে। সোমবার রাতে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান আনোয়ার হোসেন (৫৫) ও সোহাগ (২০) নামের এই দুইজন। তাদের মৃত্যুতে ভয়াবহ এই অগ্নিকাণ্ডে নিহতের সংখ্যা দাঁড়াল ৬৯ জনে।

গত ২০ ফেব্রুয়ারি রাতে অগ্নিকাণ্ডের পর ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বার্ন অ্যান্ড প্লাস্টিক সার্জারি ইউনিটে ৯ জনকে ভর্তি করা হয়েছিল।

বার্ন ইউনিটের সমন্বয়ক ডা. সামন্ত লাল সেন জানান, দগ্ধ ৯ জনের মধ্যে সোমবার রাত ১০টা ২০ মিনিটে আইসিইউতে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান আনোয়ার। এর মিনিট দশেক পর মারা যান সোহাগ। তাদের দেহের ৬০ শতাংশ পুড়ে গিয়েছিল।

রিকশাচালক আনোয়ারের বাবার নাম আলী হোসেন। তার বাড়ি রাজবাড়ী জেলার রায়নগর গ্রামে। কামরাঙ্গীরচরের ছাতা মসজিদের পূর্বপাশে স্ত্রী হাজেরা বেগম এবং তিন ছেলে ও এক মেয়েকে নিয়ে থাকতেন তিনি। একমাত্র মেয়ে বীথির আবদারে তার জন্য বিরিয়ানি কিনতে সেদিন চকবাজারে গিয়ে আগুনের মধ্যে পড়েছিলেন আনোয়ার।

আর পেশায় কসমেটিক গোডাউনের শ্রমিক সোহাগের বাড়ি ময়মনসিংহের ফুলপুর থানার মাহমুদপুর গ্রামে। তার বাবার নাম আবু তাহের। নিহতের বড় ভাই রুহুল আমিন জানান, ঘটনার দিন গোডাউন থেকে বাসায় ফেরার পথে আগুনে দগ্ধ হয়। সোহাগ বসিলা ব্রিজ ঘাটারচর এলাকায় পরিবারের সঙ্গে থাকতেন। তিন ভাই, এক বোনের মধ্যে সোহাগ ছিল তৃতীয়।

আইসিইউতে থাকা রোগীদের মধ্যে রেজাউলের (২১) শরীরের ৫১ শতাংশ, জাকিরের (৩৫) ৩৫ শতাংশ, মোজাফফরের (৩২) ৩০ শতাংশ পুড়ে গেছে। ওয়ার্ডে থাকা হেলালের (১৮) ১৬ শতাংশ, সেলিমের (৪৪) ১৪ শতাংশ, মাহমুদুলের (৫২) ১৩ শতাংশ এবং সালাহউদ্দিনের (৪৫) ১০ শতাংশ পুড়েছে বলে চিকিৎসকরা জানান।

ঢামেক হাসপাতাল পুলিশ ফাঁড়ির পরিদর্শক মো. বাচ্চু মিয়া জানান, লাশ দুটি ময়নাতদন্তের জন্য হাসপাতাল মর্গে রাখা হয়েছে।

উল্লেখ্য, ২০ ফেব্রুয়ারি অগ্নিকাণ্ডের পর ফায়ার সার্ভিস ৬৭টি লাশ উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ মর্গে পাঠায়। তার মধ্যে ৪৮ জনের মরদেহ শনাক্ত করার পর স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করেছে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ফরেনসিক বিভাগ।

বাকিদের শনাক্ত করার জন্য তাদের সম্ভাব্য স্বজনদের ডিএনএ নমুনা নিয়েছে সিআইডি। মরদেহের ডিএনএ নমুনার সঙ্গে তা মিলিয়ে শনাক্ত হওয়ার পর হস্তান্তর করা হবে।
 

সিনিউজ ডেস্ক

0 Comments

Please login to start comments