দেশজুড়ে

গোপালগঞ্জ বঙ্গবন্ধু বিশ্ববিদ্যালয়ে পদত্যাগের হিড়িক


সিনিউজ, গোপালগঞ্জ: গোপালগঞ্জে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে পদত্যাগের হিড়িক পড়েছে। মঙ্গলবার সারাদিনে দুটি হলের প্রভোস্ট ও বিভিন্ন অনুষদের চেয়ারম্যানসহ সাতজন পদত্যাগ করেছেন। এদিকে নতুন করে ছয়জন সহকারী প্রক্টর নিয়োগ দিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ।

বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা গেছে, ব্যক্তিগত কারণ দেখিয়ে মঙ্গলবার সারা দিনে দুজন হল প্রভোস্ট ও বিভিন্ন বিভাগের চেয়ারম্যানসহ সাতজন পদত্যাগ করেন। তারা তাদের নিজ নিজ পদত্যাগপত্র রেজিস্ট্রার অধ্যাপক ড. নূরউদ্দিন আহমেদের কাছে জমা দেন। পরে পদত্যাগপত্র ভারপ্রাপ্ত উপাচার্যের কাছে পাঠানো হয়।

পদত্যাগকারীরা হলেন- স্বাধীনতা দিবস হলের প্রভোস্ট মুহাম্মদ রবি উল্লাহ ও শেখ রাসেল হলের প্রভোস্ট রবিউল ইসলাম। এছাড়া কৃষি বিভাগের চেয়্যারম্যান ড. এম.এ সাত্তার, আইন বিভাগের ডিন মোঃ আব্দুল কুদ্দুস মিয়া, ছাত্র বিষয়ক উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মো. আব্দুর রহিম খান, ফুড অ্যান্ড এগ্রো প্রসেস ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের চেয়ারম্যান ড. নাজমুল হক শাহীন এবং লাইভ স্টোক বিভাগের চেয়ারম্যান মো. শফিকুজ্জামান।

এদিকে, নতুন করে ছয়জন সহকারী প্রক্টর নিয়োগ দিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তপক্ষ। মঙ্গলবার বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার অধ্যাপক ড. নূরউদ্দিন আহমেদ স্বাক্ষরিত অফিস আদেশে- এই তথ্য জানা গেছে।

সহকারী প্রক্টর পদে নিয়োগ পেয়েছেন আইন বিভাগের সহকারী অধ্যাপক মানসুরা খানম, সিএসই বিভাগের সহকারী অধ্যাপক মো. নেসারুল হক, রসায়ন বিভাগের প্রভাষক নাসিরুদ্দিন, ইইই বিভাগের প্রভাষক চয়ন মন্ডল, সমাজ বিজ্ঞান বিভাগের প্রভাষক মো. হুমায়ূন কবীর ও সিএসই বিভাগের প্রভাষক এস.এ.এম মেহেদী হাসান।

বিশ্ববিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত উপাচার্য ড. মো. শাহজাহান পদত্যাগ ও সহকারী প্রক্টর নিয়োগের সত্যতা স্বীকার করেছেন।

গত ১১ সেপ্টেম্বর আইন বিভাগের ছাত্রী ও ক্যাম্পাস সাংবাদিক ফাতেমা-তুজ-জিনিয়াকে সাময়িক বহিষ্কার করে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। জিনিয়ার বহিষ্কার নিয়ে ব্যাপক আন্দোলনের মুখে ১৮ সেপ্টেম্বর প্রশাসন তার বহিষ্কারাদেশ তুলে নিতে বাধ্য হয়। ১৯ সেপ্টেম্বর থেকে শিক্ষার্থীরা উপাচর্যের বিরুদ্ধে নানা অনিয়ম, দুর্নীতি, স্বেচ্ছাচারিতা, স্বজনপ্রীতি ও নারী কেলেঙ্কারির অভিযোগ এনে তার পদত্যাগের এক দফা দাবিতে আন্দোলন শুরু করে। আন্দোলন চলাকালে শিক্ষার্থীদের ওপর হামলার ঘটনায় ও ব্যক্তিগত কারণ দেখিয়ে তিনজন সহকারী প্রক্টর পদত্যাগ করেন। টানা ১২ দিনের আন্দোলনের মুখে ৩০ সেপ্টেম্বর উপাচার্য অধ্যাপক ড. খোন্দকার নাসিরউদ্দিন পদত্যাগ করেন।

সিনিউজ ডেস্ক

0 Comments

Please login to start comments