আন্তর্জাতিক

গোপন ক্যামেরায় পর্নোগ্রাফি: দক্ষিণ কোরিয়ায় নারীদের বিক্ষোভ


সি নিউজ : গোপন ক্যামেরায় পর্নোগ্রাফির বিরুদ্ধে দক্ষিণ কোরিয়ার রাজধানী সিউলে হাজার হাজার নারী বিক্ষোভ করেছে। শনিবারের ওই বিক্ষোভে কেবল নারীরাই অংশগ্রহণ করেছেন। এটি দেশটিতে নারীদের অংশগ্রহণে অন্যতম বড়  বিক্ষোভ। অপরাধীরা নারীদের অজান্তেই পাবলিক প্লেসে লুকানো ক্যামেরা দিয়ে নারীদের ছবি ধারণ করে থাকে। দক্ষিণ কোরিয়ায় পর্নোগ্রাফিক ছবি বা ভিডিও শেয়ার করা অবৈধ হলেও এগুলো অনলাইন ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়ে।

বিক্ষোভ সমাবেশের আয়োজকরা বলছেন, অজান্তেই পর্নোগ্রাফিক ছবি বা ভিডিওর বিষয়বস্তু হওয়ার আতঙ্কের মধ্যে বাস করতে হয় দেশটির নারীদের। ‘আমার জীবন তোমার পর্নোগ্রাফির বিষয় নয়’এমন প্ল্যাকার্ড এবং ব্যানার লিখে বিক্ষোভে অংশ নেন নারীরা। বিক্ষোভে অংশ নেয়াদের মধ্যে বেশিরভাগের বয়সই ২০ বা তার কম। সাধারণত এই বয়সের নারীরাই বেশি লুকানো ক্যামেরায় পর্নোগ্রাফির শিকার হচ্ছেন। বিক্ষোভকারীরা এসময় যারা এ ধরনের ভিডিও বানাচ্ছে, এগুলো আপলোড করছে এবং দেখছে তাদের শাস্তির দাবি জানিয়েছে। এসময় আয়োজকদের নির্দেশ মতো মুখোশ, টুপি ও সানগ্লাস পরিহিত ছিল নারীরা। আন্দোলনকারীরা বলছেন, প্রায় ৫৫ হাজার নারী বিক্ষোভে অংশ নিয়েছেন। যদিও পুলিশ বলছে, ২০ হাজার নারী বিক্ষোভে অংশ নিয়েছেন। একজন ব্যক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা শিক্ষার্থীদের জন্য নগ্ন হয়ে পোজ দেয়ার সময় তারই নারী সহকর্মী সেটির ভিডিও ধারণ করেন। পরে সেটি তিনি অনলাইনে ছড়িয়ে দেন। এ ঘটনায় গেলো মে মাসে ২৫ বছর ওই নারীকে গ্রেপ্তার করে দেশটির পুলিশ। এরপরই এই বিক্ষোভ শুরু হয়েছে। বিক্ষোভকারীদের বিশ্বাস অপরাধী একজন নারী হওয়ায় পুলিশ তাৎক্ষণিক পদক্ষেপ নিয়েছে। কিন্তু নারী ভুক্তভোগীদের ক্ষেত্রে অনেক সময়ই কেস বন্ধ করে দেয় পুলিশ। কারণ তাদের ভিডিও বিদেশি সার্ভার ব্যবহার করে আপলোড করা হয় বলে অপরাধীদের শনাক্ত করা সম্ভব হয় না।

উল্লেখ্য, দক্ষিণ কোরিয়ার আইন অনুযায়ী পর্নোগ্রাফিক ছবি তৈরির জন্য সর্বোচ্চ পাঁচ বছর কারাদণ্ড বা ১ কোটি ওয়ান এবং সেগুলো ব্যবসার উদ্দেশ্যে বিতরণের কারণে সর্বোচ্চ সাত বছর জেল ও ৩ কোটি ওয়ান জরিমানার বিধান রয়েছে। যদিও বিক্ষোভকারীদের দাবি, এই সাজা নিতান্তই কম।

Admin

0 Comments

Please login to start comments