দেশজুড়ে

গুড়-পাটালি তৈরিতে ব্যস্ত গাছিরা


 সি নিউজ ডেস্ক:  শীতের শুরুতেই চুয়াডাঙ্গায় খেজুরের রস দিয়ে গুড় ও পাটালি তৈরিতে ব্যস্ত সময় পার করছেন কৃষক ও গাছিরা। কম খরচে মেশিন ছাড়াই গুড় ও পাটালি তৈরি করে লাভবান হচ্ছেন তারা।

এখানকার তৈরি গুড় সুস্বাদু হওয়ায় এর চাহিদাও ভালো। তবে আধুনিকতার ছোঁয়া লাগলে গুড় তৈরি সহজ ও সময় কম লাগতো বলে মনে করেন সংশ্লিষ্টরা। খেজুরের রস থেকে গুড় ও পাটালি তৈরিতে বিখ্যাত চুয়াডাঙ্গা। জেলার সদর, আলমডাঙ্গা, দামুড়হুদা ও জীবননগরের প্রায় প্রতিটি গ্রামের জমির আইল ঘেঁষে রয়েছে অসংখ্য খেজুর গাছ।

বিকেলে এসব গাছের খেজুরের রস সংগ্রহের জন্য মাটির তৈরি হাঁড়ি ঝুলিয়ে রাখেন গাছিরা। পরদিন ভোরে রস বোঝাই হাঁড়ি গাছ থেকে নামিয়ে আগুনের তাপে তৈরি করা হয় গুড় ও পাটালি।

গাছিরা জানান, এক হাঁড়ি রস থেকে এক কেজি গুড় তৈরি হয়। আর প্রতি কেজি গুড় ও পাটালি বিক্রি হয় ১১০ থেকে ১৩০ টাকায়।
এসব গুড় দেশের গন্ডি পেরিয়ে রফতানি হচ্ছে চীন, অস্ট্রেলিয়াসহ নানা দেশে।

গুড়ের মান ঠিক রাখতে তাই আধুনিক ও উন্নত প্রযুক্তি ব্যবহারের উদ্যোগ নেয়ার কথা জানান জেলার চেম্বার অব কমার্সের সিনিয়র সহ-সভাপতি শাহারিন হক মালিক। তিনি বলেন, ‘এসব পণ্য এখনই বিদেশে যাচ্ছে। উন্নত প্রযুক্তি ব্যবহার করে আমরা এসব পণ্যের মান আরও ভালো করার চেষ্টা করছি।’

এদিকে, ভেজালমুক্ত খেজুরের গুড় তৈরিতে গাছিদের নিয়মিত পরামর্শ দেয়ার কথা জানিয়েছেন চুয়াডাঙ্গা সদরের কৃষি কর্মকর্তা তালহা জুবায়ের মাশরুর।
তিনি বলেন, বাংলাদেশে গুড়ের সবচেয়ে বড় হাট বসে চুয়াডাঙ্গায়। এই হাটে দিনে কোটি টাকারও কেনাবেচা হয়। গাছিদের প্রতি অনুরোধ থাকবে তারা যেন কোনো পণ্যে ভেজাল না মেশায়।
চুয়াডাঙ্গা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের তথ্য মতে, জেলায় প্রায় তিন লাখ খেজুর গাছ আছে। যা থেকে চলতি মৌসুমে ৩ হাজার মেট্রিক টন গুড় উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে।

 

Admin

0 Comments

Please login to start comments