দক্ষিণ এশিয়া

কোভিড-১৯: জরুরি তহবিল সার্ক মহাসচিবের কর্তৃত্বে রাখার দাবি পাকিস্তানের


পাকিস্তান আবারো সার্ক অঞ্চলে কোভিড-১৯ মোকাবেলার জরুরি তহবিল এই সংস্থার মহাসচিবের কর্তৃত্বে ন্যাস্ত করার আহ্বান জানিয়েছে এবং বলেছে যে এই তহবিল কাজে লাগানোর জন্য জরুরিভিত্তিতে আলোচনার মাধ্যমে মডালিটি চূড়ান্ত করতে হবে।

পাশাপাশি সার্কের সদস্য দেশগুলোর স্বাস্থ্যমন্ত্রীদের একটি ভিডিও কনফারেন্স আয়োজনের জন্য দেশগুলোর সঙ্গে যোগাযোগ করছে ইসলামাবাদ। তবে এর দিনক্ষণ এখনো ঠিক করা হয়নি। 

কোভিড-১৯ মোকাবেলায় সার্ক নেতাদের ভিডিও কনফারেন্সে একটি জরুরি তহবিল গঠনের প্রস্তাব করেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। এই তহবিলে তার দেশ প্রাথমিকভাবে ১০ মিলিয়ন ডলার দেবে বলেও জানান। এরই পরিপ্রেক্ষিতে বাংলাদেশ ১.৫ মিলিয়ন, আফগানিস্তান ১ মিলিয়ন, মালদ্বীপ ২ মিলিয়ন, নেপাল ১ মিলিয়ন, ভুটান এক লাখ ও শ্রীলঙ্কা ৫ মিলিয়ন ডলার দেবে বলে প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। মজার ব্যাপার হলো পাকিস্তান এখনো কোন অংক ঘোষণা করেনি।

এ ব্যাপারে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্রের কাছে জানতে চাওয়া হলে তিনি বলেন, আমরা জরুরি তহবিলের মডালিটির ব্যাপারে আরো বিস্তারিত জানতে চাচ্ছি। আঞ্চলিক সহযোগিতা উদ্যোগ বাস্তবায়নের জন্য সার্ক সেক্রেটারিয়েটকে একটি প্রতিষ্ঠিত ও গুরুত্বপূর্ণ প্লাটফর্ম বলে আমরা মনে করি।

অভিমত ও অভিজ্ঞতা বিনিময়ের লক্ষ্যে পাকিস্তান সেসব সার্ক দেশের সঙ্গে স্বাস্থ্যমন্ত্রীদের ভিডও কনফারেন্স নিয়ে কথা বলেছে তাদের কাছ থেকে ইতিবাচক প্রস্তাব পাওয়া গেছে।

সেখানে যেসব বিষয়ে আলোচনা হবে তার মধ্যে রয়েছে দেশগুলোর প্রবেশ পথে স্ক্রিনিংয়ের জন্য সুনির্দিষ্ট কার্যক্রমভিত্তিক প্রোটকল ও সমন্বিত রোগ নজরদারি ব্যবস্থা স্থাপন করা।

গত এক সপ্তাহ ধরে পাকিস্তানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী শাহ মাহমুদ কোরেশি নেপাল, শ্রীলঙ্কা, মালদ্বীপ ও বাংলাদেশী প্রতিপক্ষের সঙ্গে টেলিফোনে আলাপ করেন। তিনি তার ভারতীয় প্রতিপক্ষের সঙ্গেও কথা বলবেন বলে ধারণা করা হচ্ছে। কারণ বলা হচ্ছে যে তিনি সার্কের সব পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গেই আলোচনা করবেন।

২৬ মার্চ এই ভিডিও কনফারেন্স হতে পারে বলে ভারতীয় মিডিয়া উল্লেখ করলেও পাকিস্তান পররাষ্ট্র দফতরের মুখপাত্র এই পত্রিকাকে বলেছেন: পাকিস্তান স্বাস্থ্যমন্ত্রীদের সম্মেলনের কথা বলেছে। তবে বৈশ্বিক মহামারী পরিস্থিতির কথা বিবেচনা করে সার্ক স্বাস্থ্যমন্ত্রীদের অন্তর্বর্তী ভিডিও কনফারেন্স আয়োজনের প্রস্তাব দেয়া হয়েছে। এখনো এ ব্যাপারে কোন দিনক্ষণ ঠিক করা হয়নি। তবে পাকিস্তান চাচ্ছে শিগগিরই এই সম্মেলনের আয়োজন হোক। 

এর আগে এক টেলিফোন আলাপে বাংলাদেশী প্রতিপক্ষ এ কে আব্দুল মোমেনকে আশ্বস্ত করে কোরেশি সার্ক প্রক্রিয়া অনুসরণ করার ব্যাপারে পাকিস্তানের দৃঢ় প্রতিশ্রুতির কথা পুনর্ব্যক্ত করেন।

সূত্র: দি নিউজ

সিনিউজ ডেস্ক

0 Comments

Please login to start comments