কোটালীপাড়ায় শিক্ষক পেটানো সেই ইউপি চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে অনাস্থা প্রস্তাব


সিনিউজ, গোপালগঞ্জ:  গোপালগঞ্জের কোটালীপাড়া উপজেলায় শিক্ষক পেটানো সেই ইউপি চেয়ারম্যান উত্তম কুমার বাড়ৈর বিরুদ্ধে অনাস্থা প্রস্তাব এনে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন পরিষদের ৯ সদস্য।

বৃহস্পতিবার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয়ে গিয়ে তারা অনাস্থা প্রস্তাব এনে একটি লিখিত অভিযোগ দাখিল করেন। লিখিত অভিযোগে কান্দি ইউনিয়ন পরিষদের ওই ৯ সদস্য তাদের চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে শিক্ষক পেটানো, অর্থ আত্মসাৎ, সাম্প্রদায়িক ইস্যু সৃষ্টি, পরিষদের সদস্য ও জনগণের সঙ্গে অসৌজন্যমূলক আচরণসহ ১৫টি অভিযোগ করেন।

অভিযোগগুলো আমলে নিয়ে চেয়ারম্যান উত্তম কুমার বাড়ৈকে বহিষ্কার করার দাবি জানিয়েছেন ওই ৯ ইউপি সদস্য।

জানা গেছে, গত ৬ সেপ্টেম্বর সন্ধ্যায় উপজেলার কান্দি ইউনিয়নের ধারাবাশাইল বাজারে বসে গজালিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক অমূল্য রতন হালদারকে চেয়ারম্যান উত্তম কুমার বাড়ৈ ও তার ভাই মনি বাড়ৈ পিটিয়ে হাসপাতালে পাঠায়।

এ ঘটনার পর গোটা ইউনিয়নে প্রতিবাদের ঝড় ওঠে। ঘটনার পর থেকে ইউনিয়নবাসী বিক্ষোভ সমাবেশসহ বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করে আসছেন।

ইউনিয়নবাসীর সঙ্গে প্রতিবাদের কর্মসূচি হিসেবে ওই ৯ ইউপি সদস্য উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে অনাস্থা প্রস্তাব এনে লিখিত অভিযোগ করেন। এর আগে শিক্ষক পেটানোর ঘটনায় শিক্ষক অমূল্য রতন হালদারের স্ত্রী মনি হালদার বাদী হয়ে কোটালীপাড়া থানায় একটি মামলা করেন।

এ মামলায় পুলিশ চেয়ারম্যান উত্তম কুমার বাড়ৈর ভাই মনি বাড়ৈকে গ্রেফতার করে জেলাহাজতে প্রেরণ করে।

কান্দি ইউনিয়ন পরিষদের ৩নং ওয়ার্ডের সদস্য অনাদি বৈরাগী অনুপ বলেন, উত্তম কুমার বাড়ৈর বিরুদ্ধে শিক্ষক পেটানো, অর্থ আত্মসাৎ, সাম্প্রদায়িক ইস্যু সৃষ্টি, পরিষদের সদস্য ও জনগণের সঙ্গে অসৌজন্যমূলক আচরণসহ নানা অভিযোগ রয়েছে।

তিনি বলেন, আমরা এতদিন ভয়ে চেয়ারম্যানের অপকর্মের বিরুদ্ধে কথা বলতে পারিনি। শিক্ষক পেটানোর পর পুরো ইউনিয়নবাসী তার বিরুদ্ধে যখন ক্ষোভে ফেটে পড়েন, তখন আমরা অভিযোগ করি। সঠিক তদন্তের মাধ্যমে চেয়ারম্যান উত্তম কুমার বাড়ৈর বহিষ্কার দাবি করছি। কোটালীপাড়া শিক্ষক সমিতির সাধারণ সম্পাদক কাজী সাফায়েত হোসেন বলেন, শিক্ষক হচ্ছে- জাতি গড়ার কারিগর। জাতির মেরুদণ্ড। চেয়ারম্যান উত্তম কুমার বাড়ৈ শিক্ষকের গায়ে হাত দিয়ে জাতির মেরুদণ্ডে আঘাত করেছেন। তিনি জাতি গড়ার কাজে বাধা সৃষ্টি করেছেন। একজন জনপ্রতিনিধি হয়ে যদি শিক্ষকের গায়ে হাত তুলতে পারে, তা হলে তার কাছ থেকে ইউনিয়নবাসী ভালো কিছু আশা করতে পারে না।

চেয়ারম্যান উত্তম কুমার বাড়ৈ বলেন, ঘটনার দিন কান্দি ইউনিয়নের একটি বিদ্যালয় নিয়ে শিক্ষক অমূল্য রতন হালদারের সঙ্গে ধারাবাশাইল বাজারে আমার কথা কাটাকাটি হয়। একপর্যায়ে শিক্ষক অমূল্য রতন হালদার আমার বাপ-মা তুলে গালি দেয়। তখন আমার ভাই মনি বাড়ৈর সঙ্গে তার হাতাহাতি হয়।

অনাস্থা প্রস্তাবের বিষয়ে তিনি বলেন, যে ৯ ইউপি সদস্য আমার বিরুদ্ধে অনাস্থা প্রস্তাব এনে উপজেলা নির্বাহী অফিসারের কাছে অভিযোগ করেছেন, তারা পূর্বেও আমার বিরুদ্ধে এ ধরনের অভিযোগ এনে প্রশাসনের কাছে দরখাস্ত করেছিল। সেসব অভিযোগ তদন্তে মিথ্যা প্রমাণিত হয়েছিল।

অনাস্থা প্রস্তাব এনে দাখিলকৃত অভিযোগের বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এসএম মাহফুজুর রহমানের কাছে জানতে তার মোবাইল ফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করেও তাকে পাওয়া যায়নি।

তবে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার দফতরে ওই ৯ ইউপি সদস্যের লিখিত অভিযোগ দাখিলের গৃহীত কপি গত বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় স্থানীয় সাংবাদিকদের হাতে এসে পৌঁছেছে।

সিনিউজ ডেস্ক

0 Comments

Please login to start comments