কলাবাগানের শফিকুল তিন দিনের রিমান্ডে


সিনিউজ: মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনের মামলায় রাজধানীর কলাবাগান ক্রীড়াচক্রের সভাপতি ও কৃষকলীগের কেন্দ্রীয় নেতা শফিকুল আলম ফিরোজের ৩ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন আদালত।

রোববার (৬ অক্টোবর) ঢাকা মহানগর হাকিম আবু সুফিয়ান মো. নোমান শুনানি শেষে রিমান্ডের আদেশ দেন।

এর আগে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা র‌্যাব-২ এর এসআই জসিম উদ্দিন খান আসামিকে আদালতে হাজির করে ১০ দিনের রিমান্ড চেয়ে আবেদন করেন।

আবেদনে বলা হয়, আসামি খুবই চালাক প্রকৃতির। তিনি রাজনৈতিক পরিচয় ব্যবহার করে অবৈধ প্রভাব খাটিয়ে বিভিন্ন ধরনের অপরাধ করে আসছেন মর্মে তথ্য পাওয়া যাচ্ছে। স্থানীয়দের জিজ্ঞাসাবাদে জানা যায়, তিনি ঢাকার বিভিন্ন এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে অস্ত্র, গুলি এবং মাদক ব্যবসাসহ সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড করে আসছেন। মামলার প্রাথমিক তদন্তে এ আসামির বিরুদ্ধে আনা অভিযোগের স্বপক্ষে যথেষ্ট সাক্ষ্য প্রমাণ পাওয়া যাচ্ছে।

আসামির সাথে অন্য কেউ জড়িত আছে কিনা কিংবা অস্ত্র মামলায় উদ্ধারকৃত আলামত সম্পর্কে ব্যাপক জিজ্ঞাসাবাদ করা প্রয়োজন। আসামি দীর্ঘদিন ধরে মাদক ব্যবসার সাথে জড়িত। মাদকদ্রব্য তিনি কাদের মাধ্যমে নিয়ে আসেন এবং বিক্রি করেন তা জানার জন্য, ঘটনার সাথে জড়িত অন্য আসামিদের গ্রেপ্তারের জন্য, আসামির কাছে আরো মাদকদ্রব্য আছে কি না তা উদ্ধারের জন্য ১০ দিনের রিমান্ড চান তদন্ত কর্মকর্তা। রাষ্ট্রপক্ষে আজাদ রহমান রিমান্ড মঞ্জুরের পক্ষে শুনানি করেন।

আসামিপক্ষে মাসুদ এ চৌধুরীসহ কয়েকজন আইনজীবী রিমান্ড বাতিল করে জামিনের প্রার্থনা করেন। শুনানিতে তারা বলেন, আসামিকে ১৫ দিনের রিমান্ডে নেয় পুলিশ। অস্ত্র ও মাদক মামলায় প্রথমে ১০ দিনের রিমান্ডে নেয়া হয়। পরে অস্ত্র মামলায় ৫ দিন এরপর আবার মাদক মামলায় রিমান্ড আবেদন। মাদক এবং অস্ত্র মামলায় আলাদা আলাদা রিমান্ড কেন? একসাথে জিজ্ঞাসা করা যায় না। এর আগে ১৭ দিন থানা কাস্টডিতে আছে। প্রবাদে আছে যা ৬ দিনে হয় না তার ৯ দিনেও হবে না। ১৬ দিনে জানতে পারেন পারেননি, পারবেন না। আসামি বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত।

তারা বলেন, আসামির শারীরিক এবং মানসিক রেস্টের প্রয়োজন আছে। এভাবে যদি তাকে রিমান্ডে নেয়া হয় তাহলে তো তিনিই মারা যাবেন। তথ্য উদঘাটন হবে কেমনে। জানার প্রয়োজন হলে তাকে জেলগেটে জিজ্ঞাসাবাদ করা হোক। তাতেও সন্তুষ্ট না হলে তদন্ত কর্মকর্তা ফের রিমান্ডের আবেদন করতে পারেন।

উভয়পক্ষের শুনানি শেষে আদালত জামিন নামঞ্জুর করে ৩ দিনের রিমান্ডের আদেশ দেন।

প্রসঙ্গত, গত ২০ সেপ্টেম্বর দুপুর দেড়টার দিকে শফিকুল আলমকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য র‌্যাবের হেফাজতে নেয়া হয়। সন্ধ্যা সোয়া ৭টার দিকে কলাবাগান ক্রীড়াচক্রে অভিযান চালায় র‌্যাব। অভিযানকালে সাত প্যাকেট ইয়াবা, একটি বিদেশি পিস্তল ও তিন রাউন্ড গুলি জব্দ করা হয়। শুক্রবার রাতেই তার বিরুদ্ধে ধানমন্ডি থানায় অস্ত্র ও মাদকদ্রব্য আইনে পৃথক দুটি মামলা করেন র‌্যাব-২ এর পুলিশ পরিদর্শক মোহাম্মদ আব্দুল হামিদ খান।

পরদিন আদালত দুই মামলায় তার ১০ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন আদালত। ৩০ সেপ্টেম্বর অস্ত্র আইনের মামলায় তার ৫ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন আদালত।

সিনিউজ ডেস্ক

0 Comments

Please login to start comments