দেশজুড়ে

কক্সবাজারে সংকটাপন্ন এলাকায় হোটেল-মোটেল জোন ইজারা বাতিল হওয়া প্লট নিয়ে দ্বিধাদ্বন্দ্বে জেলা প্রশাসন


সি নিউজ ডেস্ক : প্রতিবেশগত সংকটাপন্ন ঘোষণার ৪ বছরের মাথায় কক্সবাজার সৈকতসংলগ্ন এলাকায় গড়ে তোলা হয় হোটেল-মোটেল জোন। শর্ত পূরণ না হওয়ার পরে ওই জোনের ৫৯টি প্লটের ইজারা বাতিল করা হয়। আইনি জটিলতা কাটিয়ে জেলা প্রশাসন এর মধ্যে ৫০টি প্লট দখলে নিয়েছে।

অভিযোগ উঠেছে, প্রতিবেশগত সংকটাপন্ন এলাকা সত্ত্বেও এসব প্লটে অবকাঠামো নির্মাণের জন্য নতুন করে ইজারা নিতে তোড়জোড় শুরু করেছে প্রভাবশালীরা। এতে প্লটগুলো নিয়ে দ্বিধাদ্বন্দ্বে পড়েছে জেলা প্রশাসন।

জেলা প্রশাসন সূত্র জানায়, ১৯৯৫ সালের পরিবেশ সংরক্ষণ আইন অনুযায়ী সরকার কক্সবাজার সৈকত ও সংলগ্ন এলাকাকে প্রতিবেশগত সংকটাপন্ন হিসেবে ঘোষণা করে। এ-সংক্রান্ত গেজেট প্রকাশিত হয় ১৯৯৯ সালের ১৯ এপ্রিল। তবে এ ঘোষণা উপেক্ষা করে পরিবেশগত ছাড়পত্র ছাড়াই ২০০৩ সালে সৈকতসংলগ্ন ১৩০ একর সরকারি খাসজমি নিয়ে হোটেল-মোটেল জোন গড়ে তোলা হয়। ওই জমিতে ৮৭টি প্লট তৈরি করে প্রভাবশালীদের ৯৯ বছরের জন্য বরাদ্দ দেয়া হয়। তবে বরাদ্দ পেয়েই বেশ কয়েকজন ব্যক্তি প্লটের ইজারা বিক্রি করে দেন।

ইজারা চুক্তির শর্ত অনুসারে ১ বছরের মধ্যে কাজ শুরু না করা কিংবা ৩ বছরের মধ্যে নির্মাণকাজ শেষ না করায় ২০১০ সালের ১২ জানুয়ারি সংসদীয় কমিটি এবং ভূমি ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের বিভাগীয় কমিটির সুপারিশের ভিত্তিতে কক্সবাজারের জেলা প্রশাসক ৫৯টি প্লটের ইজারা বরাদ্দ বাতিল করেন। এ সিদ্ধান্তের বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে ইজারাদাররা হাইকোর্টে রিট করেন। দীর্ঘ শুনানির পর গত ফেব্রুয়ারিতে উচ্চ আদালত ৫৭ প্লট মালিকের রিট খারিজ করে দেন। এর পরই জেলা প্রশাসন ৫০টি প্লট নিজেদের দখলে নেয়।

বিষয়টি নিশ্চিত করে কক্সবাজারের জেলা প্রশাসক মোঃ কামাল হোসেন বলেন, প্লটের ইজারাদাররা সরকারকে বিবাদী করে সর্বোচ্চ আদালতে মামলা করেছিলেন। দীর্ঘ আইনি লড়াই শেষে উচ্চ আদালতের রায়ে সরকার ৫৭টি প্লট ফিরে পেয়েছে। ফলে ইজারা বাতিলের সরকারের সিদ্ধান্ত বৈধ ও বহাল থাকল। ৫৭টি প্লটের মধ্যে ৫০টি প্লট আমরা ফেব্রুয়ারির শেষ দিকে বুঝে পেয়েছি। প্রতিটি প্লটের আয়তন ১ একর করে। সেখানে সাইনবোর্ড লাগিয়ে দেয়া হয়েছে। বাকি প্লটগুলো পর্যায়ক্রমে উদ্ধার করা হবে।

স্থানীয় সূত্র জানায়, আইনি জটিলতার সুযোগকে কাজে লাগিয়ে ইজারা বাতিল হওয়া কয়েকটি প্লটে অবৈধভাবে শতাধিক দোকান গড়ে তোলা হয়েছে। এসব দোকান চড়ামূল্যে হাতবদল হয়েছে। জেলা প্রশাসন ও কক্সবাজার উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ একাধিকবার চেষ্টা করেও এ দোকানগুলো উচ্ছেদ করতে পারেনি। এছাড়া জেলা প্রশাসন প্লট বুঝে নেয়ার পর নতুন করে ইজারা নিতে প্রভাবশালীরা সক্রিয় হয়ে উঠেছে। তবে প্রতিবেশগত সংকটাপন্ন এলাকা হওয়ায় জেলা প্রশাসন এসব প্লট বরাদ্দ দিতে ইচ্ছুক নয়।

এ ব্যাপারে জেলা প্রশাসক মোঃ কামাল হোসেন বলেন, বিভিন্ন প্লটে নির্মিত দোকানপাটও উচ্ছেদ করা হবে। তবে এ ব্যাপারে হাইকোর্টে মামলা বিচারাধীন আছে। এ কারণে কিছুটা দেরি হচ্ছে।

তিনি বলেন, ইজারা বাতিল হওয়া প্লটগুলো হোটেল-মোটেল জোন এলাকায়। সেখানে কী হবে এখনো সিদ্ধান্ত হয়নি। পর্যটন শিল্পের উন্নয়নে জমিগুলো কাজে লাগানো হতে পারে।

কক্সবাজার সিভিল সোসাইটির সভাপতি আবু মোর্শেদ চৌধুরী বলেন, প্লটগুলো সৈকতের কাছে হওয়ায় স্বাভাবিকভাবে গুরুত্ব বেশি। এসব জমি পরিবেশ ও পর্যটনের উন্নয়নেই কাজে লাগানো উচিত।

সিনিউজ ডেস্ক

0 Comments

Please login to start comments