উত্তরের পর্যটন কেন্দ্রে বাড়ছে রাজস্ব আয়

উত্তরের পর্যটন কেন্দ্রে বাড়ছে রাজস্ব আয়

সি নিউজ : দেশের উত্তরাঞ্চলের অন্যতম পর্যটন কেন্দ্রে পরিণত হয়েছে নাটোরের উত্তরা গণভবন। ঐতিহ্যবাহী সব প্রাচীন নিদর্শনের সংগ্রহশালার সঙ্গে মিনি চিড়িয়াখানা আর সাপের অভয়ারণ্য স্থাপনের পাশাপাশি ৮০ ভাগ এলাকা জনসাধারণের জন্য উন্মুক্ত করে ফুলে ফুলে সুশোভিত করায় এখন আড়াইশ বছরের পুরনো এই ভবনটি পর্যটকদের কাছে অন্যতম আকর্ষণীয় স্থান। ফলে দিন দিন এখানে বাড়ছে দর্শনার্থীদের পদচারণা, সেই সঙ্গে বাড়ছে রাজস্ব আয়।
সরেজমিনে দেখা যায়, গণভবনের ৮০ ভাগ এলাকা এখন দর্শনার্থীদের জন্য উন্মুক্ত ঘোষণা করা হয়েছে। এর মধ্যেই স্থাপন করা হয়েছে মিনি চিড়িয়াখানা। তাতে স্থান পেয়েছে বানর, ময়ূরসহ দেশি-বিদেশি পাখি। বিশেষ আকর্ষণ হিসেবে রয়েছে সাপের একটি অভয়ারণ্য। এছাড়া রানিমহলে লাগানো দেশি-বিদেশি আকর্ষণীয় ফুলের গাছগুলোতে ফুটে রয়েছে থোকা থোকা ফুল। মাঝে হাঁটার রাস্তা রেখে উভয়দিকে ফুলের গাছ লাগানোর ফলে স্থানটি সহজেই দৃষ্টি কাড়ছে পর্যটকদের। পাশেই জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের হাতে লাগানো ‘হৈমন্তী’ গাছটিও এখন ফুলে ফুলে সুশোভিত। নাটোর শহর থেকে তিন কিলোমিটার উত্তরে ৪১.৫ একর জমির ওপর স্থাপিত গণভবনের প্রধান প্যালেস আর ইতালিয়ান গার্ডেনের মাঝের ভবনটিতে রয়েছে সংগ্রহশালা। ৩০ টাকার টিকেটের বিনিময়ে সংগ্রহশালটি ঘুরে দেখার সুযোগ করে দেয়া হয়েছে। রাজা-রানির ছবি, রাজকুমারী ইন্দুমতির নিজ হাতে লেখা ২৮৫টি চিঠি, রাজপরিবারে ব্যবহৃত বিভিন্ন সামগ্রী, চাকাওয়ালা চেয়ার, টেবিল, সিংহাসন, দিঘাপতিয়া রাজপরিবারের ইতিহাসের মতো ঐতিহাসিক সব নিদর্শন সংগ্রহশালায় স্থান পেয়েছে। সংগ্রহশালার করিডোরে রয়েছে রাজা প্রমদানাথ রায় ও স্বস্ত্রীক রাজা দয়ারাম রায়ের ছবি, সঙ্গে রাজবাড়ির সংক্ষিপ্ত বিবরণ। রয়েছে মার্বেল পাথরের রাজকীয় বাথটাব। রাজার পালঙ্ক, ঘূর্ণায়মান চেয়ার, টেবিল, আরাম চেয়ার আর ড্রেসিং টেবিল দিয়ে পাশের ঘরটি যেন রাজার শয়নকক্ষের প্রতিরূপ। বাম পাশের দ্বিতীয় কক্ষে শোভা বাড়াচ্ছে রাজ সিংহাসন, রাজার মুকুট আর রাজার গাউন। আরো আছে মার্বেল পাথরের থালা, বাটি, কাচের জার, পিতলের গোলাপ জলদানি আর চিনামাটির ডিনার সেট। এই কক্ষে রয়েছে রাজপরিবারের লাইব্রেরির বই আর শেষ রাজা প্রতিভা নাথ রায়ের ইন্স্যুরেন্স বিষয়ক কাগজপত্র।