উজ্জীবিত করবে ‘বন-স্নান’

উজ্জীবিত করবে ‘বন-স্নান’

সি নিউজ : জাপানে ১৯৮২ সাল থেকে ফরেস্ট বাথিং অথবা বন-স্নান প্রকৃতির সঙ্গে পুনঃসংযোগের একটি উপায় হিসেবে গণ্য হয়ে আসছে। সেখানে বন-স্নান ‘শিনরিন ইয়োকু’ বলে পরিচিত। জাতীয় স্বাস্থ্যের উন্নয়ন ও বাইরের পরিবেশে সময় কাটাতে উদ্বুদ্ধ করতে জাপানের কৃষি, বন ও মৎস্য মন্ত্রণালয় বন-স্নানের ধারণা বাস্তবায়ন করে। যদিও এটি যোগব্যায়ামের মতো প্রাচীন কোনো অনুশীলন নয়, তবে বিভিন্ন অসুস্থতা কাটিয়ে ওঠার জন্য এটিকে নিয়ামক হিসেবে গ্রহণ করা হয়েছে। তবে বর্তমানে ইন্টারনেটের বদৌলতে বিশ্বে বন-স্নানের জনপ্রিয়তা বেড়েছে। তবে পুনরুজ্জীবিত হতে হলে প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত গাইডের সহযোগিতা নিতে হবে। 
মেডিটেশনের সঙ্গে বন-স্নানের অনেক মিল রয়েছে। এটি মন ও আত্মাকে শান্ত করে। বন-স্নানে পঞ্চইন্দ্রিয়ের সর্বোচ্চ ব্যবহার করা হয়। হাইকিংয়ের চেয়ে অনেক ধীরগতিতে হাঁটা হয় আর এতে গন্তব্যে পৌঁছানোর চেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ হলো ভ্রমণ।
এক গবেষণায় দেখা গেছে, যেসব ব্যক্তি শহরের রাস্তায় হাঁটেন, তাদের চেয়ে প্রাকৃতিক পরিবেশে যারা হাঁটেন, তাদের রক্তচাপ তুলনামূলক কম। জাপানের অন্য একটি গবেষণায় দেখা গেছে, নিঃশ্বাসের মাধ্যমে সিডার গাছের গন্ধ প্রবেশ করলে শরীরে স্ট্রেস প্রতিরোধক উপাদান আরো শক্তিশালী হয়।
সবচেয়ে ভালো বিষয় হচ্ছে, বন-স্নান মেজাজ উন্নত করে। গবেষণায় দেখা গেছে, বন-স্নানে হতাশা, স্ট্রেস, অ্যাংজাইটি, রাগ ইত্যাদি প্রশমিত হয়। তাছাড়া ইমিউন সিস্টেম শ্বেত রক্ত কণিকার উৎপাদন বাড়ায়, যা রোগের জীবাণুকে নষ্ট করে দেয় ও অস্ত্রোপচারের পর শরীরকে দ্রুত আরোগ্য লাভে সহায়তা করে।
নিজে নিজে বন-স্নান করা যায়। তবে একজন প্রত্যয়িত গাইড হলে ধাপে
ধাপে পুরো প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে যাওয়া যায়। মেডিটেশন যেমন একজন প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত নির্দেশকের সাহায্য নিয়ে করলে ভালো হয়, বন-স্নানও তাই। ২০১৯ সাল নাগাদ বিশ্বের ২৩টি দেশে প্রায় ৪৫০ জন প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত ফরেস্ট বাথিং গাইড থাকবে। ফলে বন-স্নানে যাওয়া বেশ সহজ হবে। তবে বন-স্নানের গাইড না থাকলেও নিজে নিজে চেষ্টা করে বন-স্নান করা যায়। সূত্র হচ্ছে, সব ইন্দ্রিয়কে উজ্জীবিত করা। বনের সবুজাভ পরিবেশে চোখ মেলে দিতে হবে, শুনতে হবে পাতার শব্দ, পাখির ডাক। বুক ভরে শ্বাস নিতে হবে, যেন এই প্রথম কোনো সুন্দর, সবুজ ও সতেজ পরিবেশে এলেন আপনি।
গভীরভাবে শ্বাস নেয়ার ফলে বনের বিভিন্ন উদ্ভিদের গন্ধ পাওয়া যায়। এটি প্রাকৃতিক অ্যারোথেরাপির কাজ করে। মাটির গন্ধও উপকারী। এটি অ্যান্টিডিপ্রেসেন্ট হিসেবে কাজ করে।
গাছের পাতা, বাকল হাতে ছুঁয়ে দেখুন। দেখুন পাতার শিরা-উপশিরা ও বাকলের গঠন। আর বনে আসার সময় যতটা সম্ভব ফল, চা ও তাজা খাবার নিয়ে আসতে হবে। এগুলো গ্রহণে শরীর দীর্ঘক্ষণ তরতাজা থাকবে। একনিষ্ঠভাবে প্রকৃতিকে অনুভব করতে হবে।