ইসরায়েল-যুক্তরাষ্ট্র থেকে রাষ্ট্রদূত প্রত্যাহার করলো তুরস্ক

ইসরায়েল-যুক্তরাষ্ট্র থেকে রাষ্ট্রদূত প্রত্যাহার করলো তুরস্ক

সি নিউজ : জেরুজালেমে মার্কিন দূতাবাস উদ্বোধনের দিনে ইসরায়েলি সেনাদের গুলিতে নিহত হয়েছে অন্তত ৫৫ জন। আহত হয়েছেন আড়াই হাজারেরও বেশি ফিলিস্তিনি। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে ইসরায়েল এবং যুক্তরাষ্ট্র থেকে নিজেদের রাষ্ট্রদূত প্রত্যাহার করে নিয়েছে তুরস্ক। এদিকে সোমবার ইসরায়েল থেকে নিজেদের রা   ষ্ট্রদূত প্রত্যাহার করেছে দক্ষিণ আফ্রিকাও। খবর আল জাজিরা।

তুরস্কের উপ-প্রধানমন্ত্রী বেকির বোজদাগ সোমবার এক বিবৃতিতে বলেন, ওয়াশিংটন ডিসি এবং তেল আবিব থেকে রাষ্ট্রদূতদের তুরস্কে ফিরে আসতে হবে। একই সঙ্গে ফিলিস্তিনিদের প্রতি সংহতি প্রকাশ করে তিনদিনের জাতীয় শোক ঘোষণা করেছে তুরস্ক। দেশটি এই ঘটনাকে হত্যাযজ্ঞ বলে বর্ণনা করেছে।

২০১৪ সালের গাজায় যুদ্ধের পর একদিনে ফিলিস্তিনি হতাহতের এটিই সর্বোচ্চ ঘটনা। ১৪ মে সোমবার ইসরায়েলের স্থানীয় সময় বিকেল চারটার দিকে জেরুজালেমে মার্কিন দূতাবাস উদ্বোধন করা হয়। সেখানে উপস্থিত ছিলেন মার্কিন প্রেসিডেন্টের মেয়ে ইভানকা ট্রাম্প ও ইভানকার স্বামী জেরার্ড কুশনার। কুশনার-ইভানকা দম্পতির পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্রের অর্থমন্ত্রী স্টিফেন মিউচিন ও উপ-পররাষ্ট্রমন্ত্রী জন সুলিভান অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন। ইসরায়েলি সৈন্যদের গুলিতে একদিনেই ৫৫ জন ফিলিস্তিনি নিহত হবার পর জাতিসংঘে ফিলিস্তিনি রাষ্ট্রদূত রিয়াদ মনসুর জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের জরুরি বৈঠক ডাকার আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি গাজার এ ঘটনাকে বর্বরোচিত আক্রমণ বলে বর্ণনা করেছেন। নিহতদের মধ্যে অনেক শিশুও রয়েছে।

জাতিসংঘের মানবাধিকার বিষয়ক কমিশনার জেইদ বিন রাদ জেইদ আল হুসেইন বলেছেন, যারা এই জঘন্য মানবাধিকার লঙ্ঘনের জন্য দায়ী, তাদের অবশ্যই জবাবদিহি করতে হবে।

এদিকে ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু দূতাবাসের উদ্বোধনী বক্তব্যে ট্রাম্পকে তার প্রতিশ্রুতি রক্ষা করার জন্য ধন্যবাদ জানান এবং দিনটিকে ইসরাইলের জন্য ‘গৌরবোজ্জ্বল দিন’বলে বর্ণনা করেন।

অন্যদিকে দূতাবাস খোলার আগে থেকেই গাজা সীমান্তে বিক্ষোভ করেছে ফিলিস্তিনিরা। এসময় নিরস্ত্র বিক্ষোভকারীর উপর গাজার আকাশ থেকে ইসরাইলি ড্রোন হামলা হয়। কাঁটাতারের বেড়ার ওপার থেকে ইসরাইলি সেনারা ছুঁড়তে থাকে গুলি। বিক্ষোভকারীদের দমন করতে ইসরাইলি সেনাদের ছোঁড়া টিয়ারশেল আকাশ থেকে পড়তে থাকে বৃষ্টির মতো। এ ঘটনায় হাজারও বিক্ষোভরত ফিলিস্তিনি গুলি আর টিয়ারশেলের আঘাতে হতাহতের শিকার হয়।

গাজা উপত্যকায় ইসরায়েলি বাহিনীর সহিংসতার নিন্দা জানিয়েছে দক্ষিণ আফ্রিকা সরকারও। দেশটির আন্তর্জাতিক সম্পর্ক এবং সহযোগিতা বিভাগের এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, জেরুজালেমে বিতর্কিত মার্কিন দূতাবাসের উদ্বোধনকে কেন্দ্র করে গাজা উপত্যকায় শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভে অংশ নিয়েছিল হতাহতরা।

এই সপ্তাহে অর্গানাইজেশন অব ইসলামিক কো-অপারেশনে (ওআইসি) জরুরি বৈঠক ডেকেছে আঙ্কারা। শুক্রবার এই বৈঠক অনুষ্ঠিত হতে পারে। ফিলিস্তিনিদের ওপর ইসরায়েলি বাহিনীর সহিংসতার ঘটনায় জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদেও বৈঠক হবে।