রাজনীতি

ইভিএমের মাধ্যমে ইলেকশন ইঞ্জিনিয়ারিং করবে সরকার: রিজভী


সি নিউজ: ইভিএম চালুর মাধ্যমে নির্বাচন কমিশন (ইসি) আরেকটি বড় ধরনের ইলেকশন ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের পথে এগুচ্ছে। সরকারি নির্দেশেই কমিশন এটা করছে।  বললেন বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম-মহাসচিব অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী। বৃহস্পতিবার বেলা সোয়া ১১টার দিকে নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ অভিযোগ করেন। ইভিএম নিয়ে সাম্প্রতিক সময়ে ইসি সচিবের বক্তব্যে দলীয় অবস্থান জানাতেই এ সংবাদ সম্মেলন আহ্বান করা হয়। রিজভী বলেন, ২০১৩ সালে সিটি নির্বাচনে বরিশাল, রাজশাহী ও সিলেটে কেবল দুটি করে কেন্দ্রে ইভিএমে নির্বাচন হয়। রাজশাহী সিটির টিচার্স ট্রেনিং কলেজ কেন্দ্রে ইভিএমে ত্রুটিপূর্ণ নির্বাচন হয়, ভোট গণনা করতে না পারায় সেখানে ব্যাপক সংঘর্ষের সূত্রপাত হয়। এ ছাড়া শামসুল হুদা কমিশন ২০১১ সালে চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনে ২১ নং ওয়ার্ডে ইভিএম ব্যবহার করলে ভোট গণনায় ত্রুটি ধরা পড়ে। তিনি বলেন, ‘জার্মানি, আমেরিকা, ভারতসহ অনেক দেশে ইভিএম মেশিন নিয়ে বিতর্ক হওয়ায় এই মেশিন ব্যবহার বন্ধ, আবার কোথাও সংস্কার করা হয়েছে, অনেক দেশে মামলাও হয়েছে। আমেরিকায় অনেক স্টেট বন্ধ করেছে আবার কিছু স্টেটে ইভিএমের পাশাপাশি ম্যানুয়াল পদ্ধতিও আছে। জার্মান আদালত ২০০৯ সালে এক রায়ে বলেছে, ইভিএম মেশিন খুব সহজেই টেম্পারিং করা সম্ভব। এতে ভোট পুনরায় গণনার সুযোগ নেই। তাই জার্মান আদালত ওই মেশিন ব্যবহার নিষিদ্ধ করেছে। রিজভী বলেন, সরকারের নির্দেশে নির্বাচন কমিশন ইভিএম চালুর মাধ্যমে আরেকটি বড় ধরনের ইলেকশন ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের পথে এগুচ্ছে। যেহেতু তাদের জনপ্রিয়তা নেই, সেজন্য তারা আগামী জাতীয় নির্বাচন নিয়ে নানা ফন্দিফিকির শুরু করেছে। ইভিএম সুষ্ঠু নির্বাচনের পরিপন্থী। বাংলাদেশের ভোটাররা ইভিএম মানতে নারাজ। ভোটাধিকার হরণে এই পদ্ধতির ব্যবহার চুপিসারে ডিজিটাল অন্তর্ঘাত। বিএনপির এই সিনিয়র নেতা বলেন, নির্বাচন কমিশনের সাথে বিভিন্ন রাজনৈতিক দল ও নাগরিক সমাজের সংলাপ চলাকালে ও পরবর্তীতে গণমাধ্যমের সামনে প্রধান নির্বাচন কমিশনার একাধিকবার বলেছিলেন, জাতীয় নির্বাচনে ইভিএম ব্যবহার হবে না। কিন্তু হঠাৎ করে সেই পুরনো ভূত আবারও জেগে উঠল কেন? আসলে এই ইভিএম ব্যবহারে নির্বাচন কমিশনের মহাআয়োজনের কলকাঠিটি নাড়ছে বর্তমান অবৈধ সরকার।

Admin

0 Comments

Please login to start comments