আবারো বিতর্কে জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার

আবারো বিতর্কে জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার

সি নিউজ : আবারো বিতর্কের মুখে জাতীয় চলচ্চিত্র পুরুস্কার। গেলো ৫ এপ্রিল ঘোষিত হয়েছে জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার-২০১৬। পুরুস্কার ঘোষণা হবার পর থেকেই একটি বিভাগের পুরুস্কার নিয়ে চলচ্চিত্র অঙ্গনে চলছিলো ফিসফাস আলোচনা। এবার সেই ফিসফাস রূপ নিলো চমকে উঠার মতো ঘটনায়। এবারের জাতীয় চলচ্চিত্র পুরুস্কার-২০১৬তে সেরা নৃত্য পরিচালক বিভাগে ‘সেরা নৃত্য পরিচালক’ হিসেবে পুরুস্কার দেওয়া হয়েছে নৃত্য পরিচালক হাবিবকে। আর এই পুরস্কারটি তাকে দেওয়া হয়েছে ‘নিয়তি’ ছবিতে নৃত্য পরিচালনার জন্য। কিন্তু যে ছবিতে নৃত্য পরিচালনার জন্য এই অর্জন হাবিবের সেই ছবিতে নৃত্য পরিচালনাতো দূরের কথা এই ছবির কোন কাজের সাথেই যুক্ত ছিলেন না তিনি ! আর এই চমকে উঠার মতো তথ্য দিয়েছেন হাবিব নিজেই। এ বিষয়ে হাবিবের কাছে জানতে চাইলে হাবিব বললেন,”জাতীয় চলচ্চিত্র পুরুস্কার অনেক বড় একটি সম্মান। এই বিশাল সম্মান আমি মিথ্যার মাধ্যমে নিতে রাজী নই। ‘নিয়তি’ ছবিটিতে আমার কাজ করার কথা থাকলেও আমি সেই ছবির কোনো গানের নৃত্য পরিচালনা করিনি। এমনকি এই ছবিতে যে নৃত্য পরিচালক হিসেবে আমার নাম ব্যবহার করা হয়েছে তাও জানতাম না আমি। কাজেই এই ছবির জন্য আমাকে যে পুরুস্কার দেওয়া হয়েছে তা আমি নিতে চাই না। এই পুরুস্কার আমি নিতে চাই আমার নৃত্য পরিচালনায় আরেকটি ছবি সম্মানিত জুরি বোর্ডের বিবেচনায় ছিলো। সেই ছবিটির নাম ‘অনেক দামে কেনা’ । যতটুকু জানতে পেরেছি এই ছবিটি সেরা নৃত্য পরিচালক বিভাগে সম্মানিত জুরি বোর্ডের বিবেচনায় দ্বিতীয় অবস্থানে ছিলো। আমার আবেদন আমাকে সেই ছবির জন্য পুরস্কার দেওয়া হোক। তাহলে আমি আনন্দের সাথে পুরস্করটি গ্রহণ করতে পারবো। কারণ এই ছবিতে আমি কাজ করেছি। ‘নিয়তি’ ছবিতে আমি কাজ করিনি।” উল্লেখ্য,’নিয়তি’ ছবিটি পরিচালনা করেছেন জাকির হোসেন রাজু। আর এটি প্রযোজনা করেছে জাজ মাল্টিমিডিয়া। হাবিবের এমন বক্তব্যের পর সমালোচনার ঝড় উঠেছে চলচ্চিত্র অঙ্গনে। এই বিষয়ে আরো খোঁজ নিয়ে জানা গেছে যে,জাতীয় চলচ্চিত্র পুরুস্কারের জন্য কোন ছবি জমা দিতে হলে সেই ছবির কপির সাথে যে সকল কাগজপত্র জমা দিতে হয় তার মধ্যে একটি হলো প্রতিটি ছবির ক্ষেত্রেই একটি নির্দিষ্ট ফর্মে ছবিটির সকল তথ্য পূরণ করে তা প্রযোজকের সাক্ষর সহ সেন্সর বোর্ডে জমা দিতে হয়। সুতরাং,হাবিবের এমন অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে ধারণা করা হচ্ছে যে জাতীয় চলচ্চিত্র পুরুস্কার-২০১৬তে ‘নিয়তি’ ছবিটি জমা দেওয়ার সময় যে নির্দিষ্ট ফর্ম পূরণ করা হয়েছে ছবিটির প্রযোজনা সংস্থার পক্ষ থেকে সেখানে নৃত্য পরিচালকের ক্ষেত্রে হাবিবের অনুমতি না নিয়ে বা তাকে না জানিয়েই ছবিটির নৃত্য পরিচালক হিসেবে তার নাম লিখে জমা দেওয়া হয়। আর সে কারণেই জুরি বোর্ড যখন ছবিটি দেখেছেন তখন সেরা নৃত্য পরিচালক বিভাগে এই ছবিটির জন্য তাকে ‘সেরা নৃত্য পরিচালক’ হিসেবে বিবেচিত করেন। এদিকে হাবিবের এই বক্তব্যের পর এরইমধ্যে চলচ্চিত্র অঙ্গনের বিভিন্ন সমিতি বিষয়টি নিয়ে সার্বিক আলোচনায় বসেছেন। এছাড়া জাতীয় চলচ্চিত্র পুরুস্কারের মতো একটি জাতীয় পুরুস্কারে এ ধরণের অনিয়ম কিভাবে ঘটলো তা নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করে এ বিষয়ে তদন্ত ও এই বিষয়ে ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য আহবান জানিয়েছেন তারা। উল্লেখ্য,এর আগে জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার – ২০১৪ সালের শ্রেষ্ঠ ছবি হিসেবে মুরাদ পারভেজের কাহিনি, চিত্রনাট্য পরিচালনায় ”বৃহন্নলা” ছবিটি নির্বাচিত হয়েছিলো। ছবিটি ”সেরা চলচ্চিত্র”,”সেরা কাহিনিকার”,”সেরা সংলাপ রচয়িতা”-এই তিনটি বিভাগে পুরুস্কৃত হয়েছিল। কিন্তু গল্প চুরির অভিযোগের মুখে অবশেষে সেই তিনটি পুরস্কার প্রত্যাহার করে নিয়েছিলো জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারের জুরি বোর্ড। পরবর্তীতে সেই পুরুস্কারগুলো বাতিল হওয়ায় দ্বিতীয় অবস্থানে থাকা ”সেরা চলচ্চিত্র” হয়েছিলো ”নেক্কাবরের মহাপ্রয়াণ”, ”সেরা কাহিনিকার” হয়েছিলেন আখতারুজ্জামান ইলিয়াস (মেঘমল্লার) এবং একই ছবির জন্য জাহিদুর রহিম অঞ্জন ”সেরা সংলাপ রচয়িতা” হিসেবে জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার পেয়েছিলেন।