আন্তর্জাতিক

আজ আন্তর্জাতিক জাতিসংঘ শান্তিরক্ষী দিবস


ড. আসাদুজ্জামান খান ॥ প্রতি বছর মে মাসের ২৯ তারিখে আন্তর্জাতিক জাতিসংঘ শান্তিরক্ষী দিবসটি পালিত হয়ে আসছে। ২০০২ সালে সাধারণ পরিষদে গৃহীত রেজুলেশনের মাধ্যমে দিবসটি ধার্য করা হয়। এইদিনে জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা অপারেশনের পূর্বে অবদানকারী এবং বর্তমানে নিয়োজিত এমন সব সাহসী এবং পেশাদার নারী-পুরুষ অংশগ্রহণকারীদের প্রশংসা ও স্মরণ করা হয় এবং নিহতদের স্মৃতির প্রতি সম্মান জানানো হয়। বাংলাদেশ শান্তিরক্ষায় অবদানের ক্ষেত্রে দীর্ঘদিন থেকে নেতৃত্ব দিয়ে আসছে। হাইতি থেকে পূর্ব তিমুর, লেবানন থেকে কঙ্গো পর্যন্ত বিশ্বের সব সংঘাতপূর্ণ এলাকায় বাংলাদেশের শান্তিরক্ষীদের পদচিহ্ন রয়েছে। বসনিয়ার তীব্র শীত, সাহারা মরুভূমির দুঃসহনীয় গরম ও পূর্ব এশিয়ার ক্লান্তিকর আর্দ্রতার সঙ্গে মানিয়ে নিয়েছে বাংলাদেশের শান্তিরক্ষীরা। ধর্ম, গোত্র, বর্ণ, রাজনৈতিক মতাদর্শ ও আঞ্চলিক বৈষম্যকে পিছনে ফেলে বাংলাদেশের শান্তিরক্ষীরা নিজেদের উৎসর্গ করেছে বিশ্বমানবতার সেবায়। বাংলাদেশের শান্তিরক্ষী সদস্যদেও পেশাগত দক্ষতা, নিরপেক্ষতা, সততা ও মানবাধিকারের কারণে বিশ্বের সব মানুষের কাছে তারা আজ দৃষ্টান্ত স্বরূপ। ১৯৮৮ সালে ইরাক-ইরান শান্তি মিশনে যোগদানের মাধ্যমে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর ১৫ জন সদস্য জাতিসংঘের পতাকাতলে সমবেত হয়। বাংলাদেশ নৌবাহিনী ও বিমান বাহিনী শান্তি মিশনে যোগ দেয় ১৯৯৩ সালে। বাংলাদেশ পুলিশ ১৯৮৯ সালে জাতিসংঘ পরিবারের সদস্য হয় নামিবিয়া মিশনের মাধ্যমে। বাংলাদেশের শান্তিরক্ষীরা মিশন এলাকায় বিবাদমান দলকে নিরস্ত্রীকরণ, মাইন অপসারণ, সুষ্ঠু নির্বাচনে সহায়তা প্রদান, সড়ক ও জনপথ এবং স্থাপনা নির্মাণে সক্রীয় ভূমিকা পালন করছে। মিশনাধীন দেশের স্থানীয় প্রসাশনকে সহায়তা প্রদান, দাঙ্গা দমন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় সর্বদা সহায়তা করে চলেছে বাংলাদেশ পুলিশের শান্তিরক্ষী সদস্যরা। বিশ্বের বিভিন্ন যুদ্ধবিধ্বস্ত অঞ্চলে শান্তি প্রতিষ্ঠা ও মানবাধিকার রক্ষার ক্ষেত্রে বাংলাদেশ ইতোমধ্যে জাতিসংঘের বিশ্বস্ত ও পরীক্ষিত বন্ধু হিসেবে স্বীকৃতি পেয়েছে। যুদ্ধ পরবর্তী বিশ্বে একটি সুন্দর ও বসবাস উপযোগী সমাজ গড়ে তোলার লক্ষ্যে বাংলাদেশের শান্তিরক্ষীরা একনিষ্ঠভাবে কাজ করে যাচ্ছে। এ পর্যন্ত জাতিসংঘের ৬৮টি মিশনের মধ্যে ৫৪টিতে ১,৪৯,৫৮৫ জন বাংলাদেশী শান্তিরক্ষী সদস্য অংশগ্রহণ করেছে। বিশ্বের সব প্রান্তের দুর্গত নিপীড়িত ও নিরীহ মানুষের সেবায় এ শান্তি রক্ষীদের হাত সর্বদা প্রসারিত। বিশ্ব শান্তি প্রতিষ্ঠায় এ পর্যন্ত দেশের ১৩২ জন বীর সন্তান নিজেদের জীবন উৎসর্গ করেছেন। তাদের এই ত্যাগ বিশ্ব শান্তি রক্ষায় বাংলাদেশের প্রতিশ্রুতিকে যেমন রক্ষা করেছে তেমনি সারা বিশ্বের মানুষের কাছে বাংলাদেশকে করেছে গৌরবান্বিত।
শান্তিপূর্ণ একটি বিশ্ব গড়ার সংগ্রামে জাতিসংঘের অন্যান্য সদস্য রাষ্ট্রের পাশাপাশি বাংলাদেশ আজ গর্বিত অংশীদার, শান্তির জাগ্রত প্রহরী।
 

Admin

0 Comments

Please login to start comments