জাতীয়

আজ আওয়ামী লীগের ৬৯তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী


ড. আসাদুজ্জামান খান ॥ বাংলাদেশের সর্ব বৃহৎ রাজনৈতিক দল বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের ৬৯তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী আজ। প্রতিষ্ঠা লগ্ন থেকে আজ পর্যন্ত দলটি অতিক্রান্ত করেছে ঊনসত্তর বছর। গত প্রায় ছয় যুগে অঙ্কুর থেকে বিশাল মহীরুহে পরিণত হয়েছে দলটি।
ধর্মনিরপেক্ষ- অসাম্প্রদায়িক রাজনীতি, বাঙালি জাতীয়তাবাদ, বহুত্ববাদী গণতান্ত্রিক সংস্কৃতি, শোষণমুক্ত সাম্যের সমাজ নির্মাণের আদর্শ এবং একটি উন্নত সমৃদ্ধ আধুনিক সমাজ ও রাষ্ট্র ব্যবস্থা নির্মাণের রাজনৈতিক, সামাজিক, সাংস্কৃতিক এবং ভাবাদর্শগত ভিত্তি রচনা করেছে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ। জনগণের ভেতর থেকে উত্থিত একটি প্রগতিশীল সংগ্রামী রাজনৈতিক দল হিসেবে আওয়ামী লীগ হচ্ছে সমাজের অগ্রসর চিন্তা-চেতনা আদর্শ লক্ষ্য ও কর্মসূচি বাস্তবায়নের অগ্রবর্তী সংঘ শক্তি।
পাকিস্তান প্রতিষ্ঠার পর মুসলিম লীগের দুঃশাসন ও প্রচ- দমন নীতির মুখে এক প্রবল বৈরী পরিবেশে ১৯৪৯ সালের ২৩ জুন ঢাকার কে,এম দাশ লেন-এর রোজ গার্ডেনে এক কর্মী সম্মেলনের ভেতর দিয়ে আনুষ্ঠানিক ভাবে আত্মপ্রকাশ করে ‘আওয়ামী মুসলিম লীগ’। মওলানা আবদুল হামিদ খান ভাসানী সভাপতি, শামসুল হককে সাধারণ সম্পাদক এবং কারাগারে আটকাবস্থায় শেখ মুজিবুর রহমানকে অন্যতম যুগ্ম-সম্পাদক নির্বাচিত করে গঠিত হয় দলটি। ২৩ জুনের সম্মেলনে প্রায় তিনশ’ নেতাকর্মী উপস্থিত ছিলেন। সম্মেলনে সভাপতিত্ব করেন আতাউর রহমান খান। এই সম্মেলনে যে সব প্রস্তাব গৃহিত হয় তা নিয়েই আওয়ামী মুসলিম লীগের ম্যানিফেস্টো রূপে গৃহিত ও প্রকাশিত হয়। তখন থেকেই আওয়ামী লীগ হয়ে ওঠে পূর্ব বাংলার জনগণের স্বার্থরক্ষাকারী সুসংগঠিত রাজনৈতিক শক্তি। পাকিস্তানের প্রথম প্রকৃত বিরোধী দল। ১৯৫৫ সালে আওয়ামী লীগ ধর্মনিরপেক্ষতাকে আদর্শ হিসেবে গ্রহণ করে দলের পুনঃনামকরণ করে ‘পূর্ব পাকিস্তান আওয়ামী লীগ।
প্রতিষ্ঠা লগ্ন থেকে দলটির যুগ্ম সম্পাদক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান পর্যায়ক্রমে সাধারণ সম্পাদক ও সভাপতি নির্বাচিত হন। তাঁর অবিস্মরণীয় নেতৃত্বে বাঙালি জাতির সবচেয়ে বড় অর্জন প্রিয় মাতৃভূমির স্বাধীনতা। আওয়ামী লীগ মহান স্বাধীনতা ও মুক্তিযুদ্বের রূপকার। প্রকৃতপক্ষে ভাষা সংগ্রাম থেকে স্বাধীকার আন্দোলন, মুক্তিযুদ্ধ, মুক্তিযুদ্ধের পুনর্গঠন এবং ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের হত্যাকা-ের পর আজ পর্যন্ত সামরিক শাসন বিরোধী গণতান্ত্রিক আন্দোলনসহ বাঙালি জাতির প্রতিটি সংগ্রামে আওয়ামী লীগ নেতৃত্ব দিয়েছে। এই দলটিই উপহার দিয়েছে দেশকে একটি সংবিধান।
বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ বর্তমানে বঙ্গবন্ধু কন্যা জননেত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে এক নবতর সংগ্রাম- ‘দিন বদলের সংগ্রামে’ নিয়োজিত। ক্ষুধা, দারিদ্র্য, শোষণ-বঞ্চনা- নিরক্ষরতামুক্ত এবং জ্ঞানে-বিজ্ঞানে, সম্পদে- বৈভবে সমৃদ্ধ একটি সুখী সুন্দর আধুনিক ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়ে তোলার কাজে নিয়োজিত। এ কাজে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ অনেকাংশেই সফলতা অর্জন করেছে ইতোমধ্যে। আওয়ামী লীগের প্রাণ পুরুষ বঙ্গবন্ধুর অসমাপ্ত কাজ শেষ করার মহান দায়িত্ব নিয়েছে তারই কন্যা। এ এক মহাকাব্যিক মেলবন্ধন।

 

Admin

0 Comments

Please login to start comments