আইন অমান্য করে ইটভাটা নির্মাণ


প্রকৃতির সংবাদ, ঠাকুরগাঁও ॥ মাঠের চারিদিকে সবুজের সমারোহ। আর এই সবুজের সমারোহের ঠিক মধ্যে খানে আইন অমান্য করে চলছে ‘এমএনবি’ নামে একটি ইটভাটা নির্মাণের কাজ। আর এতে ফসলের ব্যাপক ক্ষতির আশঙ্কা করছেন স্থানীয়রা।

সরেজমিনে গেলে এমন চিত্রের দেখা মেলে ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলার ঢোলারহাট ইউনিয়নের নওপাড়া নামক এলাকায়।

নির্মাণাধীন এমএনবি ইটভাটার পাশেই রয়েছে নওপাড়া, কামাতপাড়া, মাধবপুর গ্রামের একাধিক বসতভিটা। ভাটার চারপাশ ঘিরে ফসলি জমি। ভাটা সম্মুখে একটি সড়ক রয়েছে যার উপর দিয়েই যাতায়াত করতে হয় ওইসব গ্রামের বাসিন্দাদের।

২০১৩ সালের ইট প্রস্তুত ও ভাটা স্থাপন নিয়ন্ত্রণ আইনের ৮ ধারায় বলা হয়েছে, আবাসিক এলাকা, সংরক্ষিত বা বাণিজ্যিক এলাকা, সিটি করপোরেশন, পৌরসভা বা উপজেলা সদর অথবা কৃষি জমি এলাকায় ইটভাটা নির্মাণ করিতে পারিবেন না।

কেউ যদি আইন লঙ্ঘন করিয়া নিষিদ্ধ এলাকায় ইটভাটা স্থাপন করেন, তাহা হইলে তিনি অনধিক ৫ (পাঁচ) বৎসরের কারাদন্ড বা অনধিক ৫ (পাঁচ) লক্ষ টাকা অর্থদন্ড বা উভয় দন্ডে দন্ডিত হইবেন।

‘এমএনবি’ নামে নির্মাণাধীন এই ইটভাটার বন্ধ করার দাবি জানিয়ে গত মঙ্গলবার (২৯ জানুয়ারি) ঠাকুরগাঁও জেলা প্রশাসক ড. কেএম কামরুজ্জামান সেলিমের বরাবরে ৫৫ জনের স্বাক্ষরিত একটি লিখিত অভিযোগপত্র দাখিল করেন স্থানীয় বাসিন্দারা।

স্থানীয় বাসিন্দা মোহাম্মদ হোসেন বুলু বলেন, আবাসিক এলাকা ও ফসলি জমির মধ্যে খানে অবৈধভাবে এমএনবি নামক একটি ইটভাটা নির্মাণ কাজ শুরু হয় কয়েক মাস আগে। স্থানীয়রা অনেকবার ভাটা মালিককে বলেছে নির্মাণ কাজ বন্ধ করার জন্য, কিন্তু উনি শোনেনি।

খতিব উদ্দীন নামে আরেক বাসিন্দা বলেন, নির্মাণাধীন ইটভাটার ১০ ফিটের মধ্যেই আবাসিক এলাকার ঘরবাড়ি। অন্যদিকে ২-৩ ফিট পরেই আবাদি জমি। ইটভাটাটি হলে ফসলের ব্যাপক ক্ষতি সম্ভাবনা রয়েছে। পাশাপাশি রয়েছে দুর্ঘটনার আশঙ্কা। সেই সাথে হবে পরিবেশ দূষণও। আমরা চাই ভাটাটি বন্ধ করা হোক।

আইনে বলা আছে ভাটা নির্মাণ করতে স্থানীয় জেলা প্রশাসক ও পরিবেশ অধিদফতরের অনুমোদন পাওয়ার পর ইটভাটা নির্মাণ করতে পারবে। আর এদিকে এমএনবি ইটভাটার অনুমোদন না পাওয়ার পরও ইটভাটায় কাজ চলছে ধুমধামে।

আবাসিক ও ফসলি জমি এলাকায় ইটভাটা নির্মাণের জন্য পরিবেশ অধিদফতর থেকে ছাড়পত্র নিয়েছেন কি না এমন প্রশ্নের জবাবে ইটভাটার মালিক আমজাদ আলী বলেন, আইনে যেসব বলা আছে, এটা মানলে তো আমাদেরকে সমুদ্রের মাঝখানে ইটভাটা নির্মাণ করতে হবে। তবে অত্যন্ত আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে তিনি বলেন, দ্রুত অনুমোদন পাওয়া যাবে।

ঠাকুরগাঁও জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের উপ-পরিচালক আফতাব হোসেন বলেন, ফসলি জমির উপর কোনো মতেই ভাটা নির্মাণ হতে পারবে না। এজন্য সরকার আইন করেছে। ভাটা উচ্ছেদের জন্য যথাযথ পদক্ষেপ গ্রহণের দাবি জানান তিনি।

এ ব্যাপারে ঠাকুরগাঁওয়ের জেলা প্রশাসক ড. কেএম কামরুজ্জামান সেলিম বলেন, স্থানীয়রা একটি অভিযোগ দিয়েছে সেটি পেয়েছি। আমরা বিষয়টি যাচাই করে দেখছি; কেউ যদি অনুমোদন ছাড়া ইটভাটা নির্মাণ করে তাহলে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।  

 

সিনিউজ ডেস্ক

0 Comments

Please login to start comments