অ্যান্টার্কটিকায় সবজি উৎপাদন! 

অ্যান্টার্কটিকায় সবজি উৎপাদন! 

সি নিউজ : পৃথিবীর সবচেয়ে দুর্গম, উচ্চতম, শীতলতম ও শুষ্কতম হিসেবে পরিচিত অ্যান্টার্কটিকা মহাদেশে সফলভাবে সবজি চাষ করলেন জার্মান গবেষকরা।
একটি গ্রিনহাউজের (কৃত্রিম পরিবেশের ঘর) ভেতর চাষ করা হয়েছে  লেটুস, শসা ও মূলা জাতীয় সবজির। চাষের সবজি দিয়ে সালাদ তৈরি করে খেয়েও দেখেছেন গবেষকরা। বলা হচ্ছে- এটিই অ্যান্টার্কটিকার প্রথম সালাদ।
এ সালাদ ছিল অন্যসব বাগানের তরতাজা সবজির সালাদের মতোই সুস্বাদু, এমনটিই দাবি করলেন অ্যান্টার্কটিকায় অবস্থান করা জার্মান গবেষণা কেন্দ্র নিউমেয়ার স্টেশন-থ্রির ম্যানেজার বেনার্ড গ্রপ।
বরফ শীতল স্থানটিতে চাষাবাদের উদ্যোগ নেয়া হয় গত বছরের ফেব্রুয়ারি মাসে। গবেষণা কেন্দ্রটির ৪০০ মিটার দূরে স্থাপন করা হয় জাহাজের কন্টেইনার আকৃতির একটি গ্রিনহাউজ। গ্রিনহাউজের ভেতর গড়ে তোলা হয় সবজির বাগান। আর বাগানটির নাম দেয়া হয় ‘ইডেন আইএসএস’। অ্যান্টার্কটিকার সবজিÑ মূলত, জার্মান নভোচারীদের প্রতিকূল পরিবেশের মধ্যেই চাষাবাদের পদ্ধতি শেখানোর জন্য এ উদ্যোগ। পাশাপাশি অ্যান্টার্কটিকার জনবিচ্ছিন্ন অঞ্চলে অবস্থিত জার্মান গবেষণা কেন্দ্রটির গবেষকদের সবজি চাহিদা পূরণ করতে পারবে। গবেষকরা জানান, নভোচারীদের ভবিষ্যৎ মিশনগুলোতে অনেক দীর্ঘ সময়ের জন্য মহাকাশে অবস্থান করতে হতে পারে। এ রকম পরিস্থিতিতে তাদের তরতাজা খাবার সরবরাহ করা প্রায় অসম্ভব। তাই মহাকাশে, চাঁদে বা মঙ্গলগ্রহে যাতে চাষাবাদ সম্ভব হয় সেই প্রশিক্ষণই দেয়া হচ্ছে নভোচারীদের।
অ্যান্টার্কটিকার পরিবেশ ও মহাকাশ যানের ভেতরকার পরিবেশ অনেকটা একই রকম। উভয় স্থানেই কোনো মাটি নেই, নেই কোনো প্রাকৃতিক সূর্যালোক। কৃত্রিম আলোয় পানি সরবরাহ, বায়ু প্রবাহ ও কার্বন-ডাই-অক্সাইড নিয়ন্ত্রণ দরকার হয় চাষাবাদের জন্য। উত্তর ইউরোপের কিছু কিছু শীতপ্রধান অঞ্চলেও একই চাষপদ্ধতি প্রয়োগ করা হয়।
গবেষক পল জাবেল এ বাগানের গাছগুলো পরিচর্যার পেছনে প্রতিদিন ৩ থেকে ৪ ঘণ্টা ব্যয় করেন। তিনি বাগান থেকে সাড়ে ৩ কেজি লেটুস, ৭০টি মূলা ও ১৮টি গাজর সংগ্রহ করেন। তবে গবেষকদের কাছে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ স্ট্রবেরি চাষ। কারণ স্ট্রবেরি চাষ কিছুটা কঠিন। এছাড়া বাগানে কিছু ঔষধি উদ্ভিদও রোপণ করা হয়েছে। 
আগামী কয়েক মাসের মধ্যে ‘ইডেন আইএসএস’-এ পুরোদমে চাষাবাদ শুরু হয়ে যাবে। তখন প্রতি সপ্তাহে ৫ কেজি তরতাজা সবজি উৎপাদন করা সম্ভব হবে।