জন স্বাস্থ্য ও সচেতনতা

অটিজম শিশুর মানসিক বিকাশ জনিত একটি রোগ।


অটিজম শিশুর মানসিক বিকাশ জনিত একটি রোগ। শিশুর মস্তিষ্কের বিকাশ, গঠন এবং কাজে যখন কোন তারতম্য দেখা যায় তখনই অটিজম দেখা যায়। এই জটিল নিউরোডেভপমেন্টাল অক্ষমতা সাধারণত জীবনের প্রথম তিন বছরে প্রতীয়মান হয়। এখন পর্যন্ত অটিজমের নিশ্চিতভাবে কোন সংগা পাওয়া যায়নি।

অনেক শিশুর দেখা যায় কথা বলতে অসুবিধা,মৌখিক ও শব্দগত সমস্যা,অনুভূতি প্রকাশ করতে না পারা,স্মরণ শক্তি, সামাজিক আলাপচারিতাতে সমস্যা,দৃষ্টি শক্তিতে সমস্যা,মনোযোগ এর অভাব,একজায়গায় সীমাবদ্ধ না থাকতে পারা,নাম ধরে ডাকলে সারা না দেয়া ইত্যাদি।

অটিজম কোন দোষের না,প্রথম অবস্থাতে বা সঠিন সময়ে যদি এটি নির্নয় করা যায় তবে এটি নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব। এর জন্য প্রয়োজন সামাজিক সচেতনতা, সঠিক পরিচর্যা। অটিজম ধরা পড়লে শীঘ্র চিকিৎসা করানো হলে বিপর্যস্ত আচরণ কমিয়ে আনা সম্ভব।

অটিস্টিক বাচ্চাদের খাদ্যাভ্যাস অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। খাদ্যাভ্যাস দ্বারা অনেক সময় বাচ্চাদের হাইপার অ্যাক্টিভিটনেস কমানো যায়। এর জন্য সঠিক খাবার সম্পর্কে জানা অতিব গুরুত্বপূর্ন।

সাধারণত খাদ্যে অসহনীয়তা,ভারসাম্যহীন জৈবরসায়ন ও হজমের সমস্যা দেখা যায়।দীর্ঘ স্থায়ী ডায়রিয়া, কোষ্ঠকাঠিণ্য ইত্যাদি ও পরিলক্ষিত হয়ে থাকে।

অটিজমে আক্রমণ শিশুদের একটি বিশেষায়িত খাদ্যতালিকা হয়ে থাকে।গ্লুটেনমুক্ত,ক্যাসেইনমুক্ত খাবার দেয়া হয়ে থাকে কারন রোগীরা গ্লুটেন বা ক্যাসেনযুক্ত খাবার হজম করতে পারে না।যা নানান গবেষণা তে খাদ্যা তালিকা হিসেবে সফল বলে প্রমানিত হয়েছে।

 

যেসব খাবার না খাওয়া ভাল -

গম,রাই,ওটস,বার্লির তৈরি খাবার (এগুলো তে গ্লুটেন থাকে) -দুধ,দুধের তৈরি খাবার, মাখন,চিজ,দই,ক্রিম। -প্রিপ্যাকেজড মাংস,খাবার -ক্যান প্রোডাক্ট যেমনঃমাছ,সব্জি, সস,ইনস্ট্যান্ট কারী ইত্যাদি -সুইটনার,মো নো সোডিয়াম গ্লুটামেট,প্রিজার্ভেটিভ যা খাওয়া যেতে পারে -চাল,অ্যারারুট,সাগু,বাজরা -সয়া মিল্ক,রাইস মিল্ক,এলম্নড মিল্ক -ডিম,ফ্রেশ মাংস/মাছ,সামুদ্রিক মাছ -মসুর ডাল,ডাল জাতীয় খাবার -শাক সব্জি -বাদাম,কাঠ বাদাম - সূর্যমুখীর তেল

অটিজম আক্রন্ত বাচ্চাদের খাবার পরিবেশের বা খাবার তৈরি করার সময় যে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় গুলো খেয়াল রাখা প্রয়োজন

-বাহিরের বা ঘরে তৈরি যেকোন প্রসেস খাবার। -কাচা শাক সব্জি খাওয়ানো থেকে বিরত থাকতে হবে। -ফ্রেশ শাক সব্জি খাওয়ানো উচিৎ -অল্প পরিমানে কিন্তু একটু পর পর খাবার দেয়া উচিৎ -জোর করে বাচ্চাকে না খাওয়ানো। -বাচ্চাকে খাবার চিবিয়ে খাওয়ানো শেখাতে হবে। -চিনি মিষ্টি গুড় জাতীয় খাবারগুলো পরিহার বা কমিয়ে ফেলা। -নানান রঙের খাবারযুক্ত খাবার দেয়া -ভাজাপোড়া জাতীয় খাবার কম দেয়া -দৈনিক পর্যাপ্ত পরিমান পানি খাওয়ানো -খাবার কেনার আগে গ্লুটেন বা ক্যাসেইনযুক্ত আছে কিনা দেখে কেনা।

পরিশেষে বাচ্চাকে কি খাওয়াবেন বা খাওয়াবেন না, কোন খাবার পরিমানে কম খেতে হবে কোন খাবার বাদ দিতে হবে এটি একজন পুষ্টিবীদের সাথে আলোচনা করে করুন অন্যথা আপনার শিশুর পুষ্টি ঘাড়তি দেখা যেতে পারে।

তাসনিমা হক

নিঊট্রেশনিষ্ট ও হেলথ এডুকেশন অফিসার বি আই এইচ এস জেনারেল হাসপাতাল

চীফ নিঊট্রেশন অফিসার হেলথ এন্ড নিঊট্রেশন অর্গানাইজেশন

সিনিউজ ডেস্ক

0 Comments

Please login to start comments