জাতীয়

অগ্নিকাণ্ড রোধ ও ক্ষয়ক্ষতি এড়াতে প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা


সি নিউজ ডেস্ক : অগ্নি নিরাপত্তার ঝুঁকি প্রশমনে মন্ত্রিসভায় বেশকিছু নির্দেশনা ও অনুশাসন দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। সোমবার (০১ এপ্রিল) সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সভাপতিত্বে মন্ত্রিসভার বৈঠকে এ নির্দেশনা দেন তিনি।

ঢাকার বনানীর এফ আর টাওয়ারে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে ২৬ জন নিহত ও ১৩০ জন আহত হওয়ার ঘটনায় শোক প্রকাশ করেছে মন্ত্রিপরিষদ। একইসঙ্গে অগ্নিদুর্ঘটনা রোধে এবং দুর্ঘটনার পর ক্ষয়ক্ষতি এড়াতে ১৫টি অনুশাসন দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী।

অগ্নিদুর্ঘটনা এড়াতে প্রধানমন্ত্রীর দেওয়া অনুশাসনগুলো হলো-

১. ফায়ার সার্ভিসের ক্লিয়ারেন্স নিয়ে হাইরাইজ বিল্ডিং নির্মাণ করতে হবে এবং অগ্নিদুর্ঘটনা এড়ানোর পরামর্শগুলো মানা হচ্ছে কিনা সেগুলোর নিয়মিত মনিটরিং করতে হবে।

২. ভবনগুলোর অগ্নিনিরোধক সিস্টেম বা ক্লিয়ারেন্স প্রতি বছর নবায়ন করতে হবে। আবাসিক ও বাণিজ্যিক সব ভবনের ক্ষেত্রে এই নিয়ম প্রযোজ্য হবে।

৩. বিল্ডিং কোড অনুসরণ করে ভবন নির্মাণ করতে হবে এবং এর কোনও ব্যত্যয় সহ্য করা হবে না।

৪. বিভিন্ন ভবন বা প্রতিষ্ঠানে নিয়মিত ফায়ার ড্রিল করতে হবে এবং এ বিষয়ে সচেতনতা বাড়াতে হবে।

৫. অগ্নিকাণ্ডের সময় ধোঁয়া নিয়ন্ত্রণের কোনও উপায় আছে কিনা তা খুঁজে বের করতে হবে। কারণ আগুনে পোড়ার চেয়ে ধোঁয়ার কারণেই বেশি নিহতের ঘটনা ঘটে।

৬. রাজধানীতে প্রায়ই পানির অভাবে আগুন ঠিকমতো নেভানো যায় না। এজন্যই আগুনের কথা মাথায় রেখে রাজধানীতে পর্যাপ্ত জলাশয় ও জলাধার তৈরি করতে হবে।

৭. রাজধানীর আশপাশের লেকগুলো সংরক্ষণ করতে হবে।

৮. অগ্নিকাণ্ড বা অন্যান্য দুর্ঘটনায় ২৩ তলা পর্যন্ত পৌঁছানোর উপযোগী লেডার/লম্বা সিঁড়ি তিনটি আছে ফায়ার সার্ভিসের। এর সংখ্যা বাড়াতে হবে।

৯. বাসাবাড়ি, অফিস বা বাণিজ্যিক ভবন নির্মাণ করতে হবে চারপাশে দরজা-জানালাসহ এবং শত ভাগ ফায়ার এক্সিট নিশ্চিত করতে হবে।

১০. বৈদ্যুতিক দরজা পরিত্যাগ করে অন্য দরজা লাগাতে হবে যাতে বিদ্যুৎ না থাকলে বা দুর্ঘটনার সময় তা খোলা যায়।

১১. ভবনের চারপাশে জাল লাগানো সিস্টেম থাকতে হবে। কেউ যাতে ওপর থেকে পড়ে মারা না যায় সেজন্য এই ব্যবস্থা রাখতে হবে।

১২. হাসপাতাল ও স্কুলে অবশ্যই বারান্দা রাখতে হবে যেন কোনও দুর্ঘটনার সময় মানুষ আশ্রয় নিতে পারে।

১৩. ইন্টেরিয়র ডিজাইনাররা জায়গা বাঁচাতে ভবনের ভেতর সব জায়গা বন্ধ করে ডিজাইন করে। এরকম কোনও ডিজাইন করা যাবে না। মানুষ যেন অবাধে যাতায়াত করতে পারে সেই ব্যবস্থা রাখতে হবে।

১৪. দুর্ঘটনার সময় মানুষ যাতে লিফট ব্যবহার না করে সেজন্য সচেতনতা বাড়াতে হবে।

১৫. যে কোনও ভবনে আশা-যাওয়ার জন্য একাধিক দরজা রাখতে হবে। ভবনে প্রবেশের একটা দরজার সিস্টেম পরিহার করতে হবে।

সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে সচিব আরো জানান, মন্ত্রিপরিষদের বৈঠকে গণপূর্তমন্ত্রী জানিয়েছেন, ২৪টি টিম রাজধানীর প্রতিটি ভবন পরিদর্শন করবে। ভবনগুলোতে অগ্নিদুর্গটনা এড়াতে নিরাপত্তামূলক পর্যাপ্ত ব্যবস্থা আছে কিনা তা তারা দেখবে। তারা প্রয়োজনীয় নির্দেশনাও দেবে।

সভায় বনানীর দুর্ঘটনায় শোক প্রস্তাবও গ্রহণ করা হয়। এছাড়া হবিগঞ্জ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় আইন-২০১৯ এর খসড়া এবং গাজীপুর উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ আইন-২০১৯ খসড়ায় নীতিগত অনুমোদন দেয় মন্ত্রিসভা। সভা শেষে সচিবালয়ের সাংবাদিকদের ব্রিফিং করেন মন্ত্রিপরিষদ সচিব।

Admin

0 Comments

Please login to start comments